My Blog
প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ।। প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

নির্বাচনে হেরে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়েছেন ফ্লাভিও বলসোনারো

নির্বাচনে হেরে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়েছেন ফ্লাভিও বলসোনারো
, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়েছেন ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। নির্বাচনে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে লুলা জয়ী হয়েছেন। এদিকে লুলার বিজয়ের পর ফ্লাভিওর দল পরাজয় মেনে নিলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি ফল অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর কারণে নির্বাচনী ফলে প্রভাব পড়েছে এবং পরিবহন সংকটের কারণে অনেক ভোটার ভোট দিতে পারেননি। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও তার বাবার মতোই পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সাবেক এই প্রেসিডেন্টের দেশত্যাগ নিয়ে বেশ জটিলতা তৈরি হয়েছে, কারণ তার বিদেশ ভ্রমণের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সোমবার এই সিনেটর দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি তাকে পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্ত চলছে এবং নির্বাচনে পরাজয়ের ফলে তিনি সংসদীয় দায়মুক্তিও হারাতে যাচ্ছেন। সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, যদিও তিনি কোথায় অবতরণ করেছেন তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লাভিও ও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেয়া হবে, তবে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ব্রাসিলিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি এখন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো খবর নেই।

ব্রাজিলের একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিওর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে এবং তার দেশত্যাগের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই। তবে ইতালির সংসদীয় নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে ২০২৩ সাল থেকে তার ইতালীয় নাগরিকত্ব রয়েছে। ফ্লাভিওর নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক রজেরিও মরিনহো জানান, তারা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন। কেবল একটি খুদে বার্তায় ফ্লাভিও তাকে জানিয়েছেন যে কিছু সময় অপেক্ষা করতে, এরপর তিনি কথা বলবেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, যে ব্যক্তি দেশ থেকে লুকিয়ে পালিয়ে যায় তার নিশ্চয়ই কিছু লুকানোর আছে। মরিনহো বলেন, ‘আজ সকালে (মঙ্গলবার) তার কাছ থেকে আমি একটি খুদে বার্তা পেয়েছি।

ফ্লাভিও সোমবার ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওবার্তায় দাবি করেন, তাকে ভয় দেখানোর জন্য এসব নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে এবং তার দেশ ছাড়ার কোনো ইচ্ছাই ছিল না। তবে সোমবারের বিবৃতিতে তিনি আরও জানান, বামপন্থি সরকারের বিরুদ্ধে তিনি বিরোধী দলকে নেতৃত্ব দেবেন। এদিকে ফ্লাভিওর এই পরাজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনকে কারচুপিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। জায়ের বলসোনারোর সাথে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এছাড়া ফ্লাভিওর ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আইনপ্রণেতা হিসেবে গত সপ্তাহেই এক পডকাস্টে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনে পরাজিত হলে ফ্লাভিওর দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াই উচিত। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে নির্বাচনের প্রথম দফায় এগিয়ে থাকার পর ফ্লাভিও বলসোনারোর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

বর্তমানে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গৃহবন্দি থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোও ২০২২ সালের নির্বাচনের পর লুলা দা সিলভার শপথ গ্রহণের আগে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। সে সময় ফ্লাভিও তার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ক্ষমতায় গেলে তিনি তার বাবাকে মুক্ত করবেন। বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনি তদন্তের মুখে ফ্লাভিওর এই হঠাৎ দেশত্যাগ দেশটিতে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে খারাপ আবহাওয়ার কারণে একই অনুরোধ করেছিলেন বলসোনারোও।