
মুসলিম জীবনে অন্যতম সবথেকে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ মানে খুশি। মুসলমানদের জীবনে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ঈদ।
রমাদান অর্থাৎত তাকয়া ও খোদাভৃতি অর্জন। টানা একটি মাস মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় সিয়াম সাধনার পর সব দুঃখ, কষ্ট ভুলে শাওয়াল মাসের এক ফালি চাঁদ দেখার প্রহর গুনতে থাকে মুসলিম উম্মাহ। পূর্নতা, আনন্দ, বিজয়ের বার্তা নিয়ে আগমন ঘটে শাওয়াল মাসের। এরপর থেকেই প্রতিটা মুসলিম উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে। ছোট বড় সবাই আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। পূর্বের সব হিংসা- বিদ্বেষ -বিচ্ছিন্নতা ভুলে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি-ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয় প্রতিটি মানুষ। মাহে রমজান মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজেদের অতীত জীবনের সকল পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হওয়ার অনুভূতি ধারণ করেই পরিপূর্ণতা লাভ করে ঈদের খুশি। ধনী-গরিব সব মানুষের মহামিলনের বার্তা বহন করে ঈদুল ফিতর ভাতৃত্ববন্ধন অটুট রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। ত্যাগের শিক্ষা দেয়। তাই ঈদুল ফিতরের দিন ইসলাম ধর্মে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিধানের মাধ্যমে ধনী-গরিব সব ভেদাভেদ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের ভাতৃত্বের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাতক্ষীরা মুনজিতপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে (২১মার্চ ‘২৬) শনিবার সকাল ৭ টা৩০ মিনিটে একাডেমি মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে পর্দার ভিতর মহিলাদের ঈদের জামাতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আখতার।
এতে ইসলামী বক্তা হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসেন মমিন এঁর ইমামতিতে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
ইমামের বয়ান শেষে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা সদর ২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক তিনি তার বক্তব্য বলেন, ইসলামের পরিপূর্ণ বিধান মেনে সমাজে যাকাত ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। পবিত্র এই দিনে আজ থেকে আমরা সকলেই শপথ গ্রহণ করি ভালো মানুষ হিসেবে ইসলামের নির্দেশনা মেনে সত্য কথা বলব, সুধ, ঘুষ অন্যের হক ফাঁকি দেবো না। এবং আমানতদারী ও ভাই বোনের হক পূরণ করতে হবে। মহান আল্লাহ সবকিছু দেখেন মনের ভিতরে একথা ধারণ করে আল্লাহর প্রতি ভয় রেখ তাকওয়া ভিত্তিক জীবন গঠন করতে হবে। রমজানের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর মাধ্যমে সমাজ, জাতি ও দেশের জন্য কাজ করতে হবে। এসম জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আখতার এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।