
দেশব্যাপি সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ, জমি দখল, মন্দিরে বোমা হামলা, প্রতিমা ভাংচুর, মন্দিরে চুরির ঘটনার প্রতিবাদ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ ‘২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সামনে এ কর্মসুচি পালিত হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখা ও সংখ্যালঘু মোর্চার আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসুচি চলাকালে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টার ঐক্য পরিষদের সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ কুমার সাধুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ, জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি অ্যাড. সোমনাথ ব্যাণার্জী, সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ, জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন, মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, শিক্ষাবীদ কিশোরী মোহন সরকার, জেলা জুয়েলারী সমিতির সভাপতি গৌর চন্দ্র দত্ত, বাসুদেব সিংহ, সুজন সরকার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তন পরবর্তী সাতক্ষীরাসহ দেশজুড়ে হিন্দুদের উপর নিপীড়ন ও নির্যাতন অব্যহত রয়েছে। দীপু দাসসহ এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ জনেরও বেশি সংখ্যালঘুকে মব সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করার কথা তুলে ধরে তারা বলেন, শ্যামনগরের মীরগাং এ দীলিপ গাইন ও তাদের ভাইদের ডিসিআরকৃত জমি বৃহষ্পতিবার সকাল ১১টায় উপ-পরিদর্শক কামরুল ইসলামের উপপস্থিতিতে বিএনপি নেতা পরিচয়ে জব্বার গাজী, রাজু, শাহীনুরসহ কমপক্ষে ৩০ জন জবরদখল করতে এসে চারজন নারীকে পিটিয়ে জখম করে ঘরবাড়ি বানিয়েছে। গত বছরের ১৮ অক্টোবর দীলিপ গাইনের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার মামলা তুলে না নেওয়ায় তার তিন ভাইপোর নামে পরিকল্পিত ধর্ষণ মামলা দিয়ে বিকাশকে আটকের ৩৩ ঘণ্টা পর আদালতে পাঠান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর। ডিএনএ টেষ্ট করার পর ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় বিকাশ গাই দীর্ঘ তিন মাস পর জামিনে মুক্তি পেয়েছে। একই উপজেলার জেলেখালিতে বিষ্টু পরমান্যের জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা বানিয়েছেন বংশীপুরের নৌ বাহিনীর সদস্য জহির গাজী। যশোরশ্বেরী মন্দিরের মূল ফটকে বেলাল হোসেন ও আকবর মোল্লা এক বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে জোরপূর্বক পাকা দোকান ঘর বানিয়েছেন। কালিগঞ্জের চম্পাফুলে মাধবী মণ্ডলের জমি সামাদ গাজী ও তার ছেলে আলমগীর কবীর জোরপূর্বক দখল করতে কাটা তারের বেড়া ও প্রাচীর দিয়ে অবরুদ্ধ করলেও প্রশাসন ওই পরিবারকে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত করতে পারেনি। বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সরকার গঠিত হলেও থামছে না মব ভায়োলেন্স। গত ১০ মার্চ রাতে শ্যামনগরের হরিনগরে পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধ্রবজ্যোতি মল্লিকের বাড়ির বিচালাীগাদা কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কলারোয়ার জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান বিশাখা তপন সাহাকে সরকারি কম্বল বিতরণের সময় চুরির ট্যাগ লাগিয়ে জামায়াত নেতা মনিরুল ইসলাম লাঞ্ছিত করেছেন। নির্যাতন করা হয়েছে তার ভাসুরের ছেলে রামপদ সাহা ও সাগর সাহাকে। হামলাকারিদের ভয়ে তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ও থানায় মামলা করতে পারেননি। বুধবার দিবাগত রাতে পুরাতন সাতক্ষীরা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ঢিঁল ছোড়া দূরত্বে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় মন্দিরে দূঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটলেও সিসি টিভিতে উল্লেখিত চোর চক্র সনাক্ত না করেই ছয়জনকে আটক করে বৃহষ্পতিবার আদালতে পাঠিয়েছে। কোন সোনার গহনা বা টাকা উদ্ধার হয়নি। একইভাবে গত রবিবার দিবাগত রাতে কাটিয়া কর্মকার পাড়া মায়ের মন্দিরে তালা ভেঙে চুরি সংগঠিত হয়েছে। বৃহষ্পতিবার রাতে পুরাতন সাতক্ষীরার ব্যবসায়ি সন্তোষ ঘোষের পরিবারের সদস্যদের অজ্ঞান করে বাড়ির সর্বস্ব লুট করা হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের পবিত্র স্বর্ণকারের বাড়িতে সরস্বতী প্রতিমা ভাংচুর ও গত ৪ মার্চ আশাশুনির হামকুড়া গ্রামের জেলেপাড়ায় সার্বজনীন কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ সনাক্ত করতে না পারলেও ভাংচুর করা দুটি প্রতিমা দ্রুত সংস্কার করা ও ওই ভিডিও কোথাও প্রকাশ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চাপ সৃষ্টি করা হয়। গত শারদীয়া দুর্গাপুজা চলাকালিন সাংবাদিক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর বাড়িতে, উত্তর কাটিয়ার পিসি জুয়েলার্সের বাড়িতে, পুরাতন সাতক্ষীরার গোবিন্দ ঘোষের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনার তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই।
সাতক্ষীরাসহ দেশব্যাপি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেওয়া হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল।