শ্যামনগরে স্থানীয় অভিযোজন মেলা ও জলবায়ু সংলাপ অনুষ্ঠিত
📝মোঃ হাফিজুর রহমান✍️নিজস্ব প্রতিবেদক✅
প্রকাশের সময় :
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
৮৪
বার পড়া হয়েছে
উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্ভাবনী উদ্যোগ, অভিজ্ঞতা ও অভিযোজন কৌশল তুলে ধরতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্থানীয় অভিযোজন মেলা ও জলবায়ু সংলাপ।
সোমবার (০৯ মার্চ ‘২৬) উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট পাইকের মোড় বিলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবী, নারী সংগঠক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মেলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ১৩টি স্টলের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের জীবন-জীবিকা, স্থানীয় জ্ঞান, সংস্কৃতি ও জলবায়ু অভিযোজন কৌশল তুলে ধরেন। এসব স্টলে উপকূলীয় কৃষি যন্ত্রপাতি ও আগাছা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ, স্থানীয় অভিযোজন চর্চা, বিলুপ্তপ্রায় সামগ্রী, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ব্যবহার্য উপকরণ, বনজীবীদের জীবনযাত্রার সামগ্রী, পরিবেশবান্ধব চুলা, স্থানীয় জাতের বীজ, ধান ও চাল, হস্তশিল্প, মাটির তৈজসপত্র, শুকনা খাবার এবং হাতে আঁকা চিত্রের মাধ্যমে উপকূলের সংকট ও প্রাণবৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের বিভিন্ন উদ্যোগও প্রদর্শন করা হয়।
মেলার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় জারি-সারি পরিবেশন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দেয়ালিকা প্রদর্শনী। এসব আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি ও জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রীণ কোয়ালিশনের সভাপতি এম. জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের পরিচালক ও প্রাণবৈচিত্র্য গবেষক পাভেল পার্থ।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস.এম দেলোয়ার হোসেন, বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, শংকর ম্রং, শ্যামনগর গ্রীণ কোয়ালিশনের সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জী, সদস্য রণজিৎ বর্মন, নেত্রকোনার আল্পনা নাফাক, কামনা হাজং, বনজীবী শেফালী বিবি এবং যুব স্বেচ্ছাসেবক সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, স্থানীয় জ্ঞান ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ের নীতি প্রণয়নে গুরুত্ব দিলে টেকসই জলবায়ু অভিযোজন নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় জনগণের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সামনে এনে নীতি-নির্ধারক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তারা আরও বলেন, উপকূল ও হাওর অঞ্চলে জলবায়ু সংকট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও স্থানীয় মানুষ দেশীয় বীজ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও নিজস্ব অভিযোজন কৌশল ব্যবহার করে টিকে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বক্তারা স্থানীয় অভিযোজন উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে জলবায়ু অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে সরাসরি গ্রামের মানুষ নিজেদের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পেলে তা আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের অভিযোজন সংগ্রামকে জাতীয় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং সবার জন্য জলবায়ু তহবিল নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
দিনব্যাপী এই মেলা ও সংলাপ উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু সংকট, স্থানীয় উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং টেকসই অভিযোজন কৌশল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।