
উপকুলীয় জেলা সাতক্ষীরায় পরিক্ষামুলক কালোজিরা চাষ সফল দাবী কৃষি বিভাগের। ৩ বছর আগে সদরের বাঁশদাহে একজন কৃষকের ১ বিঘা দিয়ে শুরু হওয়া বারী কালোজিরা-১ চাষ এখন ডজন চাষী ২৩ বিঘায় দাঁড় করিয়েছে। খরচের তুলনায় ৩/৪ গুন লাভ বেশী হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের। শীতে তাপমাত্রা সহনশীল এবং বেলে দোঁয়াশ মাটিতে বারী কালোজিরা-১ চাষ উপযোগি নতুন ফসল। হতে পারে কালো সোনা নামে এজেলার আগামীর নতুন ব্রান্ড।
সাতক্ষীরায় বেলে, দোয়াশ, আধা লোনা ও লোনা মাটি নির্ভর একটি জেলা। এখানে প্রায় সব ধরণের ফসল হয়ে থাকে। তবে অল্প জমিতে চাষ করে বেশি লাভের নতুন ফসল বারী কালোজিরা-১। নানাগুনে গুনান্নিত এবং ঔষধীগুন সম্পন্ন বারী কালোজিরা-১ উদ্ধাবনের পর সাতক্ষীরার চাষীরা নতুন স্বপ্ন দেখছেন। দিন দিন বাড়ছে চাষ আর চাষীর সংখ্যা। রবি মৌসুমে হেক্টর প্রতি ৮/১০ কেজি বীজ বপন শেষে ইউরিয়া টিএসপি ফসফেট জিং সার পর্যায়ক্রমে প্রয়োগ ও নিয়মিত সেচ দিলে ফলন খুবি ভাল হয়। বিঘা প্রতি ১৫/১৬ হাজার টাকা খরচ করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ পাচ্ছেন চাষীরা। একই চাষে মৌচাষীরা পাচ্ছেন উৎকৃষ্টমানের মধু।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাড়ি ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমা আক্তার জানান, স্বাভাবিক চাষ সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত পানি দিলেই কালোজিরা চাষ হয়। বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ পাওয়ায় খুশি তারা। সরকারি বীজ এবং সহযোগিতা পেলে নজির সৃষ্টি করতে পারে বলছেন চাষীরা। কালোজিরা চাষ শুস্ক এবং ঠান্ডা আবহাওয়াসহ বেলে দোয়াশ মাটি অত্যন্ত উপযোগি। পরীক্ষামুলক চাষ হলেও লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন কৃষকের সংখ্যা বাড়ছে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি’র উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: সাইফুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরায় বারী কালোজিরা-১ জাতের ফসল পরিক্ষামুলক চাষে কৃষকদের আগ্রহে আগামীতে হতে পারে জেলার ব্র্যান্ড। বিভিন্ন ফসলের সম্মৃদ্ধময় সাতক্ষীরায় কালোজিরা চাষে চাষীদের চোঁখে মুখে নতুন স্বপ্ন, পাশাপাশি বাড়তি লাভ উৎকৃষ্টমানের মধু। ফলে আগামীতে উল্লেখযোগ্য ফসল হিসেবে কৃষকের সামনে আসবে বলে ধারনা তার।