মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুরে রাতের আঁধারে অ গ্নি সং যোগ: অল্পের জন্য রক্ষা পেল একটি পরিবার শ্যামনগর-এ ‘জলবায়ু সংকট ও স্থানীয় অভিযোজন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন তালার উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দূ র্বৃ ত্ত দে র আ গু ন, রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ দেবহাটার সখিপুরে জলবদ্ধতা সমস্যা পরিদর্শনে ইউএনও সাংবাদিক সামিউল মনিরের উপর দূ র্বৃ ত্ত দে র হা ম লা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের তীব্র নি ন্দা ও প্র তি বা দ তালায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জ রি মা না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯০ কোটি টা কা আ ত্ম সা ৎ: কা ঠ গ ড়া য় সাতক্ষীরার ২৫ প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা কারাগারে হা জ তী র মৃ ত্যু নব নির্বাচিত এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের ইমামতিতে জানাজা সম্পন্ন কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনে নেতা-কর্মীদের সম্মানে দোয়া ও ইফতার মাহফিল 

সাতক্ষীরার নলতায় ১৯৩৫ সাল থেকে চলছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইফতার আয়োজন

✍️মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল📝 জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক✅
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

বিশিষ্ট শিক্ষা সংস্কারক, পীরে কামেল খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র স্মৃতি বিজড়িত সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নলতা শরীফ। এই নলতা শরীফের সুবিশাল প্রাঙ্গনে রমজানের পবিত্রতায় মুখরিত ১৯৩৫ সাল থেকে চলে আসা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের বৃহত্তম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইফতার মাহফিল। এখানে প্রতিদিন ৬ হাজার মানুষের এই বিশাল মিলনমেলায় শামিল হচ্ছেন দুর-দুরন্ত থেকে আসা হাজারো মুসল্লী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফোটার আগেই জেগে ওঠে সাতক্ষীরার নলতা। ফজরের নামাজ শেষ হতেই শুরু হয় এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রতিদিন ৬ হাজার রোজাদারের জন্য ইফতার প্রস্তুত করাই তাদের উদ্দেশ্য। মাসজুড়ে এই মিলনমেলা আজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইফতার আয়োজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বিশাল এই আয়োজনে কাজ  করেন ৫০ জন বাবুর্চি ও তাদের সহকারী। প্রতিদিন এখানে তৈরি হয় ২০০ কেজি ভুনা ছোলা, ১৪৪ কেজি সুজি ও ৬০০ কেজি দুধের ফিরনি। সাথে থাকে ৬ হাজার সিঙ্গাড়া এবং ৬ হাজার সিদ্ধ ডিম। সাথে থাকে খোরমা, কলা ও চিড়া। সব প্রস্তুত হওয়ার পর সেগুলি নিয়ে যাওয়া হয় ইফতারের জন্য প্রস্তুত থাকা মাঠে।

বিকেল গড়াতেই পুরা রওজা মাঠ ভরে যায় হাজার হাজার রোজাদারের ভিড়ে। তৈরী হয় এক অন্যরকম আবহ। স্বেচ্ছাসেবকরা আসরের পর থেকে এখানে প্লেটে দেয়া শুরু করেন। ছোলা, কলা, ফিরনি, সিঙ্গাড়া, খেজুর, চিড়া ও ডিমসহ মোট ৭টি আইটেম দিয়ে ভওে দেন প্লেটটি। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সম্পূর্ন স্বেচ্চাসেবকের ভিত্তিতে কাজ করেন ৩০০ জন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। যারা চারটি গ্রæপে ভাগ হয়ে পরম মমতায় সাজাতে থাকেন ইফতারের প্লেটগুলি।

উল্লেখ্য, ১৯৩৫ সালে বিশিষ্ট শিক্ষা বিজ্ঞানী পীরে কামেল হযরত খানবাহাদুর আহছানউল্লা (র.) যে ঐতিহ্যের সূচনা করেছিলেন, নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের উদ্যোগে আজ তা কয়েক হাজার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা রোজাদাররা একই কাতারে বসে ইফতার করতে পেরে আনন্দে আপ্লুত। বিশাল এই জমায়েতে নেই কোনো বিশৃঙ্খলা, কোলাহল আছে কেবল শান্তির পরশ।

খুলনা থেকে আসা ফেরদৌস আহমেদ জানান, তিনি ইফতারে অংশ নিতে এখানে এসেছেন। এত মানুষের সাথে ইফতার করতে পারা এক পরম সৌভাগ্যেও বলে মনে করেন তিনি।

সাতক্ষীরার ইটাগাছা এলাকার আবুল কাসেম জানান, তিনি ৫০ বছর ধরে এখানে ইফতারে অংশ নেন। এখানে ইফতাওে আসলে মনে আলাদা এক শান্তি অনুভব করেন তিনি।  

নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম জানান, এই আয়োজনে প্রতিদিন ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। যা আমাদের ভক্ত মুরিদদের দান অরুদান থেকে যোগান হয়। এই আয়োজন যেন কেবল ইফতার নয় এটি এখন হয়ে উঠেছে ধমীয় ঐতিহ্যবাহি ধনী-গরিবের এক মিলন মেলা।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!