
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষায় নতুন সরকারের কাছে আলাদা সুন্দরবন মন্ত্রণালয়ের দাবি জানিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে সুন্দরবন দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ‘২৬) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের পাদদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শ্যামনগরের উপকূলজুড়ে পরিবেশ রক্ষার প্রত্যয়ে উদযাপিত হলো সুন্দরবন দিবস। নতুন সরকারের কাছে আলাদা সুন্দরবন মন্ত্রণালয় গঠন এবং দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে সরব ছিলেন উপকূলবাসী, পরিবেশবাদী সংগঠন ও তরুণরা।
সুন্দরবন দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয় সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স, হেড সংস্থা, কোডেক, ফেইথ ইন অ্যাকশন, এ.এল.আর.ডি, প্রাণসায়ের ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন। দিবসটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস সংলগ্ন সুন্দরবন ও খোলপেটুয়া নদীর উপকূলে মানববন্ধন ও নৌ-শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। নীলডুমুর ঘাটে সুন্দরবনের প্রাণ-পরিবেশ সুরক্ষা, বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং বনকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে ক্যাম্পেইনও করা হয়।
দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করেন হেড সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন, ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্সের প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল খালেক, ফেইথ ইন অ্যাকশনের প্রকল্প কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বৈদ্য, হেড সংস্থা’র কর্মসূচি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম অন্তর, প্রিন্স বিশ্বাস, জয়া বিশ্বাস, ইয়ুথ লিডার হৃদয় মন্ডল, সোনিয়া পারভিন, শাহনাজ পারভিন, কোডেক লিডার শামীম হোসেন, ভুক্তভোগী নারী সকিনা খাতুন ও হৈমী মন্ডলসহ অনেকে।
‘সবুজ বনই জীবনের ঢাল, সুন্দরবন বাঁচুক চিরকাল’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় উপকূলীয় জনপদের বিভিন্ন বয়সী মানুষ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সমগ্র আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন এবং সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন।
প্রাণ সায়ের ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ’র সাধারণ সম্পাদক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়—এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের প্রধান রক্ষাকবচ; তাই এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন সময়ের দাবি। সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা বন্ধ, বন্যপ্রাণী নিধন রোধ এবং নদী-খালে প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান।
ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্সের প্রকল্প কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, উপকূলবাসীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সুন্দরবন সংরক্ষণ এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া জরুরি।
ফেইথ ইন অ্যাকশনের প্রকল্প কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বৈদ্য বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা না করলে উপকূলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকিতে পড়বে।
হেড সংস্থা’র কর্মসূচি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম অন্তর বলেন, স্থানীয় মানুষ ও তরুণদের সম্পৃক্ত করেই টেকসইভাবে সুন্দরবন রক্ষা সম্ভব।
অনুষ্ঠানজুড়ে বক্তারা বননির্ভর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় যুবসমাজকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।