
পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় এক বিশ্ববিদ্যালয়গামী ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত ছাত্রীর পিতা প্রাণনাথ দাসের বরাত দিয়ে সাতক্ষীরা থানার উপপরিদর্শক সোহেল রানা সাংবাদিকদের জানান, শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি ‘২৬) রাতে পরিবারের চার সদস্য (স্বামী-স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে) একসাথে রাতের খাবার শেষে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রাণনাথ দাস লক্ষ্য করেন, মেয়ের কক্ষ ভেতর থেকে লক করা রয়েছে-যা তার মেয়ের স্বাভাবিক অভ্যাস ছিল না। এতে সন্দেহ হলে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
ভেতরে ঢুকে তারা দেখতে পান, ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাদের একমাত্র মেয়ে ঝুলছে। পরে তাকে নামিয়ে দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে মৃতের স্বজনরা জানান,প্রভা মেধাবী ছিল। সে এবার উচ্চ মাধ্যমিক কৃতিত্বের সাথে শেষ করে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছিল। তিন বছর আগে প্রভার সাথে শহরের স্টেডিয়াম সংলগ্ন পানির ট্যাংকির পাশে এক ভিন্ন ধর্মী ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠাকে ভাল চোখে দেখেনি তার বাবা- মা। সম্প্রতি ওই ছেলে প্রভাকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। তাছাড়া মৃতের বাবা প্রাননাথ দাস প্রগতি এনজিও খুলে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে পাঁচ শতাধিক মানুষের কাছ থেকে ৮০ কোটিরও বেশী টাকা প্রতারনা করে। দুই বছর আগে প্রভা ও তার ভাইসহ মাকে নিয়ে ভারতে পালাতে হয় প্রাণনাথ দাসের। ভারতে যেয়ে গোবরডাঙা থানার মামলায় কয়েক মাস দমদম জেল হাজতে থেকে স্বপরিবারে দেশে ফেরে প্রাননাথ। এখানে এসে কমপক্ষে ১০ টি প্রতারণা মামলায় বারবার জেল খাটতে হয় প্রাননাথকে। এসব কারণে প্রভা মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিল। ভূধর সরকার নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষকের এক কোটি টাকা প্রতারনা করায় মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে সম্প্রতি মারা যান ওই শিক্ষক। এতে প্রভাকে বিষন্ন মনে হতো। এমন এক পরিস্থিতিতে শনিবার গভীর রাতে প্রভা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন,বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।