
শীতের স্নিগ্ধ সকাল। কুয়াশার পাতলা চাদর সরিয়ে উঁকি দিচ্ছে মিষ্টি রোদ। সেই সোনাঝরা রোদে ধুলোবালি নয়, যেন উড়ছে আনন্দ-উৎসবের আবির। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর গার্লস হাইস্কুল প্রাঙ্গণ সেজেছে এক অন্য সাজে।
উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি ‘২৬) সকালে স্কুলের সবুজ চত্বরে ফিতা কেটে এবং নীল আকাশে রঙিন বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে এই আনন্দযজ্ঞের শুভ সূচনা করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক, ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ডিবি গার্লস হাইস্কুলের ‘সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা স.ম. শহিদুল ইসলাম।
শীতের আমেজে ঘেরা এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলাম। সহকারী শিক্ষক এস. এম. শহীদুল ইসলামের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের জৌলুস বাড়িয়ে দেন আব্দুল হামিদ বাবু, রবীন কর্মকার ও জাহাঙ্গীর কবিরের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
দীর্ঘদিন পর খেলার মাঠে প্রিয় শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। একদিকে দৌড় আর লাফের লড়াই, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক মঞ্চে ফুটে উঠেছিল গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া মানুষগুলোর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুজিত কুমার মণ্ডলের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মো. নজিবুল ইসলাম ও গীতা রানী সাহা, মো. হাফিজুল ইসলাম, খালেদা খাতুন, শামীমা আক্তার ও অরুন কুমার মণ্ডল, কনক কুমার ঘোষ, দেবব্রত ঘোষ, আজহারুল ইসলাম, ভানুবর্তী সরকার, আসমাতারা জাহান ও মৃনাল কুমার বিশ্বাস। মাঠে ছাত্রীদের উদ্দীপনা আর শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় তিন দিনের এই আয়োজন কেবল প্রতিযোগিতাই নয়, বরং হয়ে উঠেছে এক মিলনমেলা। শীতের এই হিমেল হাওয়ায় ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর গার্লস হাইস্কুলের আঙিনা এখন উৎসবের চাদরে মোড়া।