
প্রকৃতিতে এখন শীতের শাসন। পাতাহীন রুক্ষ ডাল আর কুয়াশার ঘোমটা পরা ভোরে যখন সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত, তখন সাতক্ষীরার দামারপোতা গ্রামের দশটি পরিবারে যেন আগাম বসন্তের বাতাস বয়ে গেল। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের বদান্যতায় এবং ‘প্রবীণ কল্যাণ সংস্থা’র আন্তরিক প্রচেষ্টায় অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে আর্থিক সহায়তার উপহার।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ‘২৬) গ্রাম্য শিউলি ঝরা বিকেলের শেষে দামারপোতা গ্রামের রাজ্জাক মোল্লার আঙিনায় বসেছিল এক প্রীতি সম্মিলন। উপলক্ষ অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লক্ষ টাকা বিতরণ। ঋতুর বৈরিতায় যারা কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। অনুষ্ঠানে প্রিয়ন্তি কর্মকার, আব্দুল মাজেদ, তাহসিন থেকে শুরু করে তবিবুর রহমান এমন মোট দশজন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা করে মোট এক লক্ষ টাকার চেক।
এই সবকিছুর মূলে যে প্রতিষ্ঠানটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে, তা হলো ‘প্রবীণ কল্যাণ সংস্থা’। মূলত এই সংস্থার মাধ্যমেই সব কল্যাণমুখী কাজের উৎপত্তি। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এলাকার শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের দুয়ারে আজ সরকারের এই বিশেষ বরাদ্দ পৌঁছেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত গুণীজনেরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব শামীমা ফেরদৌসী। তাঁর এই সদিচ্ছাই দশটি পরিবারের অন্ধকার ঘরে আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠেছে।
সহায়তা বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সচিব ফজলুর রহমান, সাবেক অধ্যক্ষ সুকুমার দাস এবং সাবেক অধ্যক্ষ আবদুল হামিদ, প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহ-সম্পাদক কাজী আবু হেলাল।
এছাড়াও ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফুজ্জামান খোকন, মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মোল্লা এবং মেম্বর হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে উপস্থিত সুধীজন ও উপকারভোগীরা দেশ ও দশের কল্যাণে দোয়া করেন।