
সুন্দরবনের হরিণ শিকার রোধে বন বিভাগের অভিযানে ২৪৬টি অবৈধ ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনরক্ষীরা বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ‘২৬) দিনভর অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন কলাগাছিয়া, চুনকুড়ি ও মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির এলাকা থেকে এসব ফাঁদ উদ্ধার করা হয়।
এ সময় হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে পাতা দড়ির তৈরি ফাঁদগুলো জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে শিকারিরা আগেই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এসময় সুন্দরবনের কলাগাছিয়া বন টহল ফাঁড়ির ফুলখালী খাল এলাকা থেকে ২০০ টি, চুনকুড়ি বন টহল ফাঁড়ির চালতেবাড়ি খাল এলাকা থেকে ১৭ টি এবং মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির ভুতোশিং, কলুখালি এলাকা থেকে ২৯ টি সহ মোট ২৪৬ টি ফাঁদ উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, গত ০৯ জানুয়ারি মাহমুদা নদীর বাওনে বারামখালী খাল এলাকা থেকে নৌকার ভীতরে ফাঁদ থাকায় ৩জন আটক করা হয়। ০৬ জানুয়ারি কেয়াখালী (নিষিদ্ধ খাল) এলাকা থেকে ৬০ টি হরিণ শিকারের ফাঁদ এবং একটি হরিণ ফাঁদে আটক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও গত বছরের ২৭ নভেম্বর মরগাং বনাঞ্চল এলাকায় হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে পেতে রাখা ১৬০ টি ফাঁদ, ১৩ নভেম্বর মুন্সিগঞ্জ বনাঞ্চল এলাকা থেকে ৪৫ টি ফাঁদ, ১২ অক্টোবর কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন সাপখালী খাল এলাকা থেকে হরিণ শিকারের ৬০টি ফাঁদ উদ্ধার করা হয়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত ফাঁদগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বন আইনে মামলা হয়েছে।
সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী বিশেষ করে হরিণ রক্ষায় নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ শিকার বন্ধে বন বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হরিণ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু কিছু অসাধু চক্র গোপনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে আসছে।