বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিবপুর ইউনিয়নের পায়রাডাঙ্গা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষ বিজয়ের লক্ষ্যে আব্দুর রউফের নির্বাচনী পথসভা  ইসলামকাটিতে সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার ধানের শীষ প্রার্থী হাবিবের  ধানের শীষের গণজোয়ার ভোটের দিন পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে, বিজয় নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ- আব্দুর রউফ গোবিপ্রবিতে দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা অনুষ্ঠিত রাজনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দুদক-এর ‘সততা সংঘ’ পুনর্গঠন খেজুরডাংগা আর.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুদক-এর ‘সততা সংঘ’ পুনর্গঠন জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে চাঁদাবাজি, লুটপাট, ধর্ষণসহ সকল অন্যায় কঠোর হাতে দমন করা হবে- অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জত উল্লাহ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পদক্ষেপে ৮ম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ তারুণ্যে যুব ফাউন্ডেশনের অফিস পরিদর্শন করলেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তারা ভোট জালিয়াতি করার দুরভিসন্ধি আঁকে সঙ্গে সঙ্গে জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে- মামুনুল হক

শ্যামনগরে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী মোরগ লড়াই

✍️রঘুনাথ খাঁ📝 জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক✅
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পৌষ (মকর) সংক্রান্তি উৎসব উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী মোরগ লড়াই খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ‘২৬) দিনব্যাপী পৌষ সংক্রান্তি উৎসব উপলক্ষ্যে উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী গ্রামের আদিবাসী মুন্ডা সংলগ্ন মাঠে এ মোরগ লড়াই খেলার আয়োজন করা হয়। 
মোরগ লড়াই শুরুর আগে, মোরগ বাছাই করে জোড় বাঁধা হয়। এবং কাতদার কাছ থেকে পায়ে ছুরি বেঁধে দুই পক্ষের মালিক মোরগকে মুখোমুখি ধরে কিছুক্ষণ দেখান, যাতে মোরগ উত্তেজিত হয়। তার পরে শুরু হয় মোরগের লড়াই। 
ঐতিহ্যবাহী মোরগ লড়াই দেখতে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। মোরগ লড়াই খেলায় অংশ নিতে সাতক্ষীরা, কালীগঞ্জ, দেবহাটা, কয়রা থানাসহ শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার থেকে প্রতিযোগিরা প্রতিযোগিতাস্থলে মোরগ নিয়ে হাজির হন।স্থানীয় আদিবাসী মুণ্ডা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে প্রতিবছর মোরগ লড়াই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।  প্রতিযোগিতায় প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মোরগ দিনভর জমজমাট লড়াইয়ে মেতে ওঠে। লড়াই ঘিরে মাঠে বসে অস্থায়ী দোকানপাট, খাবার ও খেলনার পসরা, গ্রামীণ মেলার আবহ তৈরি হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী মনোতোষ মুন্ডা বলেন, আমি অনেক বছর ধরে এখানে মোরগ লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করি। লড়াই এর জন্য প্রতিবছর আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে মোরগ পালন করি। দেশের নানা প্রান্তে খেলা হলে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমরা এই খেলাকে ধরে রেখেছি। এছাড়াও আমাদের এলাকার অনেকে এখানে এই খেলায় অংশগ্রহণ করতে এসেছে। আমাদের ভালো লেগছে এত মানুষ আমাদের মোরগের এই খেলা উপভোগ করছে। 
স্থানীয়রা জানান, এটি তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। পৌষ সংক্রান্তির আনন্দকে ঘিরে এই আয়োজন গ্রামবাংলার সংস্কৃতিরই একটি অংশ। অনেকে বলেন, এই দিনে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ এবং বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হলো এই মোরগ লড়াই।
মোরগ লড়াই দেখতে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিমল গায়েন বলেন, আমাদের দেশে গ্রামীণ লোকজ খেলা হিসেবে বিভিন্ন খেলার প্রচলন ছিল। কাবাডি, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই ইত্যাদি খেলাগুলো এখন প্রায় বিলুপ্তর পথে। মুরুব্বিদের কাছে প্রায়ই যে হারানো ঐতিহ্যের কথা শোনা যায়, এই মোরগ লড়াই ছিল সেই ঐতিহ্যেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় ২ শত বছর ধরে এই খেলা হয়ে আসছে।
মোরগ লড়াই আয়োজক কমিটির পঞ্চান্ন মুন্ডা বলেন, আমাদের তিন পুরুষ আগে থেকে এই মোরগ লড়াই খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আমরা ধর্মীয় কৃষ্টি কালচার হিসেবে পৌষের শেষ দিনে পৌষ (মকর) সংক্রান্তি উৎসবের সঙ্গে সাকরাইন উৎসবের অংশ হিসেবে সুদীর্ঘকাল ধরে মোরগ লড়াই প্রতিযোগিতা অয়োজন করে আসছি। কোনরকমে আমরা এখনো পর্যন্ত খেলাটি ধরে রেখেছি। এবারের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে এক থেকে দেড় হাজার মোরগ নিয়ে প্রতিযোগীরা অংশ নেন।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!