
ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ছে প্রায়ই। কোথাও বেরিয়ে আছে মরিচাধরা রড। একাধিকবার সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণীকক্ষে ও অফিসকক্ষে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দেয়াল, ছাদ, পিলার ও বিমে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। শ্রেণীকক্ষ ও অফিস রুমের মেঝেও দেবে গেছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছৈ ২৬ নং দক্ষিণ সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যে কোনা সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন। ভগ্নদশা ভবনের কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা দিন দিন কমছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চার কক্ষবিশিষ্ট পুরোনা একতলা ভবনের একটি অফিসরুম এবং তিনটি শ্রেণিকক্ষ পাঠদান চলছে। ১৯৯৫ সালে নির্মিত ভবনটির ছাদে বড় বড় অংশ খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও ফাঁটল ধরে আছে দেয়ালজুড়ে।
শ্রেণীকক্ষে জলাবদ্ধতা আর দেবে যাওয়া মেঝে শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে পাঁচ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ভাঙাচোরা শ্রেণিকক্ষে পড়তে তাদের ভয় লাগে। যে কোন সময়ে ছাদ বা দেয়ালের অংশ ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে আতঙ্কে থাকতে হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “২০২৩ সালে যোগদানের পর থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। অভিভাবকরা অনেকেই নিরাপত্তার কথা ভেবে অন্য প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পাঠাচ্ছেন। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার আবেদন করেছি, এখনও কোন ফল পাইনি।”
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, “বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হলেও নতুন ভবনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) এর আওতায় ভবন অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে যেকোন সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।