
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে কারিনা দাস (২৩) নামের এক তরুণী গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কারিনা কাশিপুর গ্রামের সুজিত দাসের স্ত্রী ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাটকেখালী গ্রামের থ্রি-হুইলার চালক সঞ্জয় দাসের বড় মেয়ে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন ‘২৬) ভোররাতে কাশিপুর গ্রামের নিজবাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তালা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের সুজিত দাসের সঙ্গে কারিনা দাসের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো তাকে বলে অভিযোগ পরিবারের।
কারিনার বাবা সঞ্জয় দাস জানান, তার জামাতা সুজিত টিউশনি করলেও স্থায়ী কোনো আয় ছিল না। এ কারণে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে সুজিত ও তার মা কারিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন এবং তাকে নানাভাবে কষ্ট দিতেন।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার ভোররাতে হঠাৎ শ্বশুরবাড়ি থেকে কারিনার মৃত্যুর খবর পান তারা। পরে জানতে পারেন, কাশিপুর গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ। খবর পেয়ে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোক ও হতবাক নীরবতা।
পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম লুৎফুল কবির জানান, কারিনার শ্বশুরবাড়ি থেকে আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।
কারিনার মামা গৌর দাস বলেন, তার ভাগ্নীর মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। এর পেছনের রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
কারিনার মাসতুতো ভাই সাগর দাস জানান, জন্মের পর বাবা-মা আদর করে মেয়ের নাম রেখেছিলেন কারিনা। ছোটবেলা থেকেই সে ছিল শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের। পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে নানা হাতের কাজও শেখানো হয়েছিল, যেন সে নিজের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু স্বপ্নভরা সেই মেয়েটির জীবন বিয়ের পর থেকেই যেন অন্যরকম হয়ে যায়। পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের মধ্যেই কাটছিল তার দিনগুলো। হঠাৎ এমন মৃত্যুর খবর তাদের জন্য যেন এক অপ্রত্যাশিত শোকের বজ্রাঘাত হয়ে এসেছে।
এদিকে কারিনার মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়ি বাটকেখালীসহ আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রতিবেশী ও স্বজনরা বিশ্বাস করতে পারছেন না, হাসিখুশি সেই মেয়েটি আর কখনো ফিরে আসবে না।
স্বজনদের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তাদের ভাষায়, একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই বেদনাদায়ক বার্তা বহন করে।
কারিনার মৃত্যুর ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মমতাজ মজিদ বলেন, মঙ্গলবার সকালে কারিনাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত অবস্থায় আগে থেকে পাওয়া যায়। পরে তাকে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। তার শরীরের কিছু ক্ষতও দেখা যায়।