
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে জমি সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সদর উপজেলার আগরদাঁড়ী ইউনিয়নের কাশেমপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ কবির হোসেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ ‘২৬) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে মোঃ কবির হোসেন বলেন, তার পিতা মোঃ গোলাম রসুল মোড়লের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের মৃত হামেজউদ্দীন গাজীর পুত্র আব্দুর রহমান গাজী ও তার দুই পুত্র আল-মামুন ও নূরুল ইসলাম, আহম্মেদ মন্ডলের পুত্র নজরুল ইসলাম, মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র রাকিব হোসেন এবং তাদের পরিবারের সদস্য তানজিলা খাতুন ও ছবিরণ বিবির সাথে বিরোধ চলে আসছে।
তিনি অভিযোগ করেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তির মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ শতক জমি দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে বিবাদীরা। বিষয়টি নিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-১৪৩৭/২০)। মামলা দায়েরের পর থেকেই বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময় তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
তিনি আরও বলেন, একাধিক ঘটনায় তার মা হোসনেয়ারা খাতুন ও ভাবী রেবেকা খাতুনকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৬০/২২)।
কবির হোসেন জানান, ২০২১ সালে বিবাদীরা তাদের বাড়ির যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে শালিসের মাধ্যমে সমঝোতা হয়। সে অনুযায়ী পৈত্রিক জমির একটি অংশ ভেঙে ১ শতক ২৫ পয়েন্ট জমির বিনিময়ে রাস্তার জন্য ১ শতক ২৩ পয়েন্ট জমি দিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা করা হয়।
এরপরও বিরোধ থামেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ৮ আগস্ট পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে আবারও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলমান মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে এবং তার ভাই কলারোয়া উপজেলা ভূমি অফিসের প্রসেস সার্ভেয়ার আব্দুল গফুরকে নিয়মিত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তার ভাই সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনিবন্ধিত অনলাইন মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে মোঃ কবির হোসেন এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।