বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ‘২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম আসামি একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
একেএম আজহারুজ্জামান মুকুল সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি বল্লী ইউনিয়ন শাখার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি এবং বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিলুজ্জামানকে জোরপূর্বক কক্ষ থেকে বের করে হেনস্তা করা হয় এবং তাঁর চেয়ার দখল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত আজহারুজ্জামান মুকুলের নেতৃত্বে কয়েকজন বহিরাগত বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করে বের করে দেয়।
ঘটনার দুটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বহিরাগত কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর করে বের করে দিচ্ছেন। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে অভিযুক্ত শিক্ষক উপস্থিত লোকজনকে বলছেন, ‘আমার রাজ্যে আমি রাজা, কারও কথা শোনার সময় আমার নেই।’ একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, জামিলুজ্জামানকে আর ওই চেয়ারে বসতে দেওয়া হবে না। যদি স্কুলে আসার চেষ্টা করা হয় তাহলে চিরতরে উপরে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় শিক্ষক জামিল উজ্জামান ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মুকুলসহ ১০ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। বিচারক তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গোয়েন্দা অপরাধ ও তদন্ত শাখার সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি তদন্ত করে গোয়েন্দা অপরাধ ও তদন্ত শাখার পুলিশ উপপরিদর্শক মাছুদ পারভেজ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
শিক্ষক মুকুল উচ্চ আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে তাঁকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, ২০২৫ সালের ২১শে ডিসেম্বর মামলায় এর আগে অভিযুক্ত মহব্বত খাঁ এবং আজমল হোসেন আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি লাভ করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ (২)।
আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. এম. শাহ আলম,অ্যাড. আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ চারজন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আজহারুজ্জামান মুকুল সহকারী শিক্ষক হলেও দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিলেন।সাংসদ মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি এর পরিকল্পনায় তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মালায় জেলে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সহকারী শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের নেতৃত্বে কয়েকজন বহিরাগত বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী দুই দিন তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।