মাদক নিয়ন্ত্রণে কেবল অভিযান চালিয়ে বা খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি (চার্জ) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান। মাদকের নেপথ্যের কুশীলব, মূল সরবরাহকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের আইনের আওতায় আনতে সমন্বিত একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘পলিসি ডায়ালগ অন এ ড্রাগ ফ্রি বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজনে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি সহযোগিতা প্রদান করে। ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানান, বিপুল যাত্রী ও বিস্তীর্ণ রেলপথের কারণে মাদক চোরাচালান রোধে নজরদারি বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলায় পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে রাষ্ট্র, সমাজ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি দেওয়ার কেন্দ্র নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ শেখার স্থান। মাদক প্রতিরোধে ক্যাম্পাসে নিয়মিত কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তির মূল কারণ অনুসন্ধানে অভিভাবক ও শিক্ষকদের যোগাযোগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।
মাদকবিরোধী সচেতনতা ও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল। তিনি জানান, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসনের চর্চা জরুরি। একই সঙ্গে অপরাধী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করে সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের পথ সুগম করার আহ্বান জানান তিনি।
নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন মাদকের সাপ্লাই চেইন বা অর্থনৈতিক কাঠামো ভাঙার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দৃশ্যমান অপরাধীদের পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে না থাকে।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব জানান, মাদকের উৎস ও সরবরাহ ব্যবস্থা শনাক্ত করতে জেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তবে সাধারণ মানুষের ভয় দূর করতে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ‘হ্যালো ডিসি’ নামে একটি নাগরিক সেবার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি।
কন্টিনেন্টাল হসপিটালের মনোরোগ বিভাগের প্রধান পরামর্শক ডা. এস এম কবির জুয়েল বলেন, মাদকাসক্তি একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। কেবল ওষুধ নয়, বরং রোগী ও তার পরিবারকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী মনোসামাজিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং ফলোআপ সেবার মাধ্যমে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।





