রাজনীতি

এবি পার্টির: পুলিশ থাকার পরেও বিএনপির নেতা–কর্মীরা কেন লাঠিসোঁটা নিয়ে নামছেন

রাজনীতি ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকারের ব্যর্থতা দেশের শিল্প খাতকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নয়। অথচ পুলিশ, শিল্প পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতা-কর্মীদের লাঠিসোঁটা হাতে রাজপথে নামতে দেখা যাচ্ছে। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

গাজীপুরে শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ওই মৃত্যুর জন্য দায়ী কারা এবং শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, তা-ও তদন্ত করে জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগও একই ধরনের ভুল করেছিল। শ্রমিক অসন্তোষ দমনে দলীয় কর্মীদের মাঠে নামানো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার পাশাপাশি নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে।

পোশাকশিল্প ও শ্রমিকের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উভয় বিষয় একে অপরের পরিপূরক। শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এখন তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে। একদিকে শ্রমিককে ন্যায্য মজুরি দিতে হবে, অন্যদিকে শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও কর্মসংস্থানও ধরে রাখতে হবে। তবে এসব নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলে তিনি মত দেন।

সরকারের ধীরগতির সমালোচনা করে মজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, ১৫ অক্টোবর মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লেগেছে। এরপর ৪ নভেম্বর বোর্ড তাদের প্রথম সভা করেছে। শ্রমিক অসন্তোষ চলাকালে সিদ্ধান্ত নিতে এত বিলম্ব সরকারের সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতিকেই স্পষ্ট করে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্বাস ইসলাম খানও বক্তব্য দেন।