
সাতক্ষীরায় একই ভোরে পৃথক দুটি স্থানে এক মেধাবী চিকিৎসক ও এক নৈশপ্রহরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ '২৬) ভোররাতে শহরের কাটিয়া ও রসুলপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা দুটি ঘটে, যা নিয়ে বর্তমানে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও রহস্য’র দানা বাঁধছে। পুলিশ উভয় ঘটনায় তদন্ত শুরু করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) সুশান্ত ঘোষ জানান, বুধবার (২৮ মার্চ '২৬) দুপুর ২টা মরদেহগুলো উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও অধিকতর তদন্ত শেষে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
লন্ডনফেরত চিকিৎসকের রহস্যমৃত্যু: শহরের কাটিয়াস্থ সাতক্ষীরা সদর মন্দির সংলগ্ন নিজ বাসভবন থেকে ডা. সজীব দত্তের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সজীব ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি লন্ডনে উচ্চতর এফসিপিএস পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই কিছুদিন আগে বাড়িতে ফেরেন মর্মে জানান সজীবের আত্মীয় ও প্রতিবেশী উৎপল সাহা।
সজীবের বাবা তপন কুমার দত্ত জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সজীব তার ঘরে ঘুমাতে যান। বুধবার সকালে তার মা কাঞ্চন দত্ত পূজা করার জন্য ওই ঘরের দরজায় ধাক্কা দিলে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারেন এবং ছেলেকে সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। মেধাবী এই চিকিৎসকের এমন মৃত্যুতে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নৈশপ্রহরীর ঝুলন্ত মরদেহ: অন্যদিকে, একই সময়ে শহরের কদমতলা বাজার সংলগ্ন রসুলপুর গ্রামে আব্দুর রাজ্জাক (৪৮) নামে এক নৈশপ্রহরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি কলারোয়া উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের শামসুদ্দীন সরদারের ছেলে। রাজ্জাক রসুলপুর গ্রামের ‘ফাল্গুনী বস্ত্রালয়’ এর বাড়িতে নৈশপ্রহরী ও কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন এবং সেখানেই তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। স্বজনরা জানান, ভোররাতে রাজ্জাক সেহেরীর খাবারও খান।
স্থানীয় প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম জানান, পারিবারিক বা সাংসারিক কোনো জটিলতার কারণে এই অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।