
মায়ের সঙ্গে ভিন্নধর্মী অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরে এক যুবককে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৪ মার্চ '২৬) ভোরে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ফটিকখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতের নাম গৌতম বাছাড়(১৭)। সে আশাশুনির ফটিকখালি গ্রামের মৃত বিশ্বজিৎ বাছাড়ের ছেলে।
ফটিকখালি গ্রামের উত্তম বাছাড় জানান, প্রায় ১০ বছর পূর্বে তার বাবা বিশ্বজিৎ বাছাড় মারা যান। তার এক বছর না যেতেই বাড়িতে আসা যাওয়ার সূত্র ধরে মায়ের সাথে পার্শ্ববর্তী চেউটিয়া গ্রামের মৃত মোসলেম বিশ্বাসের ছেলে বিএনপি কর্মী মোর্তাজুল বিশ্বাসের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে তিনি ও তার ভাই গৌতম বাছাড় প্রতিবাদ করতেন। প্রতিবাদের একপর্যায়ে মোর্তাজুল তার ছোট ভাই গৌতম বাছাড়কে হুমকি দেয়। এই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গত বছর পারশেমারি ধনীরাম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় এক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়।
উত্তম বাছাড় আরো জানান, শুক্রবার গভীর রাতে মোর্তাজুল তাদের বাড়িতে আসে। মায়ের সঙ্গে মোর্তাজুলের অনৈতিক সম্পর্কে দেখে ফেলায় শনিবার ভোরের দিকে গৌতমকে দুইজনে মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘরের আড়ার সাথে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে সকালে আত্মহত্যার প্রচার দেয় মা। তিনি ও স্থানীয়রা গৌতমের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখলেও দুটি পা মাটিতে লেগে ছিলো। স্থানীয় একটি মহল লাশ ময়না তদন্ত না করে সৎকারের জন্য চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে তিনি আপত্তি করায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে শেফালী বাছাড় মোর্তাজুলের সাথে তার অনৈতিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে বলেন, তার ছেলে গৌতম আত্মহত্যা করেছে।
তবে মোর্তাজুলের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে খাজরা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি বোরহানউদ্দিন বুলু জানান, মোর্তাজুল একজন বিএনপি কর্মী। তবে গৌতমের মায়ের সঙ্গে মোর্তাজুলের সম্পর্ক আছে মর্মে এলাকায় প্রচার রয়েছে।
আশাশুনি থানর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শামীম আহম্মেদ খান জানান, পুলিশ গৌতম বাছাড়ের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গলায় দড়ি দিয়ে গৌতম আত্মহত্যা করেছ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।