
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পূর্ব দহাকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শওকত আলীর বিরুদ্ধে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগ উঠেছে। নথিপত্র অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের প্রায় দুই মাস আগেই তিনি নিজেকে ‘পাস’ দেখিয়ে কর্মস্থলে যোগদান করেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯২ সালের ২০ জুন তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার তপন কুমার সরকারের স্বাক্ষরিত এক নিয়োগপত্রের মাধ্যমে দহাকুলা গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী সরদারের ছেলে শওকত আলী সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। নিয়োগপত্র পাওয়ার পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ২৫ জুন তিনি পূর্ব দহাকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল ওই বছরের ১৩ আগস্ট। অথচ শওকত আলী চাকরিতে যোগদান করেছেন ২৫ জুন। অর্থাৎ, বোর্ড থেকে ফলাফল ঘোষণার অন্তত ৪৮ দিন আগেই তিনি পাসের সনদ সংগ্রহ করে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। ফলাফল প্রকাশের আগেই কীভাবে তিনি সার্টিফিকেট অর্জন করলেন এবং সেই তথ্যে নিয়োগ পেলেন, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি এই চাকরি বাগিয়ে নেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, শওকত আলী তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল সাত্তারকে একটি গাছ কাটার মামলায় জড়িয়ে বরখাস্ত করানোর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে নিজেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব বাগিয়ে নেন।
ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “ফলাফল প্রকাশের আগে চাকরি পাওয়া অলৌকিক ব্যাপার। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসুক।”
সনদ জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. শওকত আলী। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “যে সময় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু হয়েছিল, তখন সনদ সংক্রান্ত এ ধরনের কোনো জটিলতা ছিল না। পরে সরকার আমাদের সুযোগ দিয়েছিল। আমরা তখন পরীক্ষা দিয়ে সনদ জমা দিয়েছি। ভুয়া সনদে এতদিন চাকরি করা সম্ভব নয়।”
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় এমন জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।