
সাতক্ষীরায় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে দুর্যোগের আগে, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে করণীয় শীর্ষক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) শহরের কাটিয়া টাউন বাজারে অবস্থিত হিউম্যান রাইটস এন্ড ইনভাইরনমেন্টাল অ্যাকশন ডেভেলপমেন্ট (হেড) সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
হিউম্যান রাইটস এন্ড ইনভাইরনমেন্টাল অ্যাকশন ডেভেলপমেন্ট (হেড) এর বাস্তবায়নে এবং ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ডের অর্থায়নে প্রশিক্ষণটি আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা প্রদান করে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন।
প্রশিক্ষণে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শরীফুল¬াহ কায়সার সুমন। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন রেহানা পারভিন বিথী ও সোনিয়া পারভীন। তারা দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া, নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া, ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কৌশল এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেড সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন হেড সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার মো: তরিকুল ইসলাম অন্তর। এসময় হেড সংস্থার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও শহর গ্রুপের লিডারসহ তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান প্রশিক্ষক শরীফুল¬াহ কায়সার সুমন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তাই তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষিত করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন ও দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক তৈরি হলে দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আরও সহজ হবে।
হেড সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। ভবিষ্যতেও এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
প্রশিক্ষক রেহানা পারভিন বিথী বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রস্তুতি খুবই জরুরি। তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতিতে কাজ করার আত্মবিশ্বাস অর্জন করে।
প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলাম অন্তর বলেন, এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য তরুণদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তোলা। তারা যেন দুর্যোগের আগে সচেতনতা সৃষ্টি, দুর্যোগের সময় উদ্ধার ও সহায়তা এবং পরবর্তীতে পুনর্বাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে করে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পান। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।