
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামী-সন্তান নিয়ে সাজানো ছোট্ট সংসারটি মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে অশ্রুসিক্ত নীরবতায়। আর এই মৃত্যুর পর সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে ছয় বছর ও আড়াই বছর বয়সী দুই শিশুর ভবিষ্যৎ।
রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলিম আল রাজি টোকন পরিবারের বরাতে জানান, বুধবার (০৪ মার্চ '২৬) ভোররাতে বাড়ির একটি কক্ষে সুলতার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
কালিগঞ্জ থানার এসআই মতিন বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর স্বামী শশাঙ্ক সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সুলতার পিতা সুবল বৈদ্য অভিযোগ করেন, তার মেয়ের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্যনৈমিত্তিক কলহ লেগেই থাকতো। তিনি দাবি করেন, সুলতা প্রায়ই স্বামী শশাঙ্কের বিরুদ্ধে অন্যত্র অনৈতিক সম্পর্ক ও পরকীয়ার অভিযোগ জানাতেন। এসব বিষয় নিয়ে পরিবারে প্রায়শই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
কালিগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার সুমিত কুমার জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে, হঠাৎ মায়ের মৃত্যুতে দুই শিশুর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির আঙিনা। প্রতিবেশী শিখা রাণী বলেন, রাতে যা-ই ঘটুক, সকালে এমন দৃশ্য কেউ কল্পনাও করেনি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক। পুলিশ যেন এভাবে গৃহবধুদের মারা যাওয়ার ঘটনাগুলোকে আত্মহত্যা বলে সবসময় চালিয়ে না দেয়।
স্থানীয় সমাজকর্মী আব্দুল করিম বলেন, একটি পরিবারে দাম্পত্য কলহ কতটা গভীর হলে তার পরিণতি এমন মর্মান্তিক হতে পারে প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মনে। আর সবার চোখ এখন পুলিশের যথাযথ তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে।