বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে র‍্যালি ও আলোচনা সভা  মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ  মহান বিজয় দিবসে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দোয়া, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ  মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেবহাটা জামায়াতের বর্ণাঢ্য র‌্যালি দেবহাটায় মহান বিজয় দিবস পালিত সাতক্ষীরায় জেলা বিএনপি’র বিশাল বিজয় র‍্যালি সাতক্ষীরায় জামায়াতের বিজয় র‌্যালি  যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসুচির মধ্যে দিয়ে সাতক্ষীরায় বিজয় দিবস উদযাপন সাতক্ষীরায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে সংবর্ধনা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার ডি.বি ইউনাইটেড হাইস্কুলে দোয়া ও আলোচনা সভা 

আশাশুনিতে আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষের ভদ্রকান্ত সরকারের সফলতার গল্প

✍️সেলিম হায়দার📝তালা প্রতিবেদক✅
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৪০ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের ঝাটিকাটা গ্রামের ভদ্রকান্ত সরকার ছোটবেলা থেকেই মাছ চাষে আগ্রহী ছিলেন। জমি ছিল, পরিশ্রম করার মানসিকতা ছিল, স্বপ্নও ছিল-কিন্তু ঘাটতি ছিল সঠিক পদ্ধতি আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের। তাই যতই চেষ্টা করতেন, ঘেরে মাছ ঠিকমতো বাঁচত না। কখনো অক্সিজেন কমে যেত, কখনো রোগ দেখা দিত, আবার কখনো উৎপাদন খরচই উঠত না। একসময় মনে হচ্ছিল, মাছ চাষ হয়তো তার পক্ষে সম্ভব নয়।
এই কঠিন সময়েই সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা (সাস) এর R.M.T.P প্রকল্প এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), ইফাদ ও ড্যানিডার অর্থায়নে তিনি আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রশিক্ষণ পান। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি পান ৫০ হাজার টাকার অনুদান। সেখান থেকেই তার জীবনে শুরু হয় সত্যিকারের পরিবর্তন। অনুদানের টাকা দিয়ে তিনি একটি এয়ারেটর মেশিন কিনলেন-যা ঘেরে নিয়মিত অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং মাছকে রোগ-ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।
এয়ারেটর চালুর পর ফলাফল দেখতে সময় লাগেনি। যে ঘেরে আগে মাছ টিকে থাকতে পারত না, সেই ঘেরের পানি এখন স্বচ্ছ, মাছগুলো আরও চঞ্চল, আর বৃদ্ধিও দ্রুত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার ঘেরের অবস্থা পুরোপুরি বদলে যায়।
আগে যেখানে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা লাভ পেতেন, এখন একই জায়গায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ২০ হাজার টাকার বেশি লাভ করতে পারেন। শুধু লাভই বাড়েনি-মাছের মৃত্যু কমেছে, খাদ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এসেছে আর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তার আত্মবিশ্বাসে। যে মানুষটি কখনো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, তিনি এখন ঘের বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন, নতুন প্রযুক্তি শেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছে, আর পরিবারকে আরও নিরাপদ জীবন দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
ভদ্রকান্ত সরকার বলেন- “সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা সাসের R.M.T.P প্রকল্প এবং পিকেএসএফ, ইফাদ ও ড্যানিডা আমাকে শুধু অনুদান দেয়নি, দিয়েছে এগিয়ে যাওয়ার পথ। এই সহায়তা আমি কখনো ভুলব না।”
এখন তার সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। যারা ঘেরপাড় দিয়ে হাঁটেন, সবাই তার গল্প শোনেন। গ্রামের অন্য চাষিরা তার কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি এখন তাদেরও উৎসাহ দেন।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!