
গোপালগঞ্জে করোনা (কোভিড-১৯) মহামারীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চলছে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইন্টার্নি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি।
গত শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগী দেখতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে তাহমিদ আঞ্জুম আবীর ও আলমগীর হোসেন নামে দুই ইন্টার্নি চিকিৎসককে পিটিয়ে আহত করেছে রোগীর স্বজনেরা। পরে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ শনিবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদ।

এ ঘটনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জরুরী বৈঠক করেছেন। পুলিশ ও রোগীর স্বজন সূত্রে জানাগেছে, ডাক্তার তাহমিদ আঞ্জুম আবীর এর নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করায় রোগীর স্বজনদের সাথে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং মোবাইল ফোনটি ভেঙ্গে ফেলে।
এ ঘটনার জেরে রাতে রোগীর স্বজনেরা সংঘবদ্ধ হয়ে হাসপাতাল চত্বরে ওই দুই চিকিৎসককে পিটিয়ে আহত করেন।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)—এর গোপালগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. হুমায়ন কবীর বলেন, বুধবার সদর উপজেলার বাজুনিয়া গ্রামের একটি মারামারির ঘটনায় আহত আমিনুল ইসলাম নামে এক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার দুপুরে ওই রোগীর স্বজনেরা তাকে দেখতে যাওয়ার জন্য আহত চিকিৎসক তাহমিদ আঞ্জুম আবীরকে ডাকেন। কিন্তু আসতে দেরি হলে তার সঙ্গে স্বজনদের বাকবিতন্ডা হয়। এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে চিকিৎসক তাহমিদ আঞ্জুম আবীর তার সহকর্মী আলমগীর হোসেনকে সাথে নিয়ে রাতের খাবার খেতে হাসপাতালে শেখ হাসিনা চত্বর এলাকায় পৌঁছালে বাজুনিয়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম ও তার লোকজন তাদের বেদম প্রহার করে। এ সময় তাদের চিৎকারে সহকর্মীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ একজনকে আটক করে। বাকী অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা।