
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ট্রাক্টর চালানোর আদায় করা ভাড়ার টাকা চাইতে যাওয়ায় চালক কর্তৃক মালিক ও তার ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর '২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা গ্রামের সোহরাফ উদ্দীনের ছেলে ট্রাক্টর মালিক মোঃ রাজু আহমেদের ছোট ভাই মোঃ রাশেদ হোসেন এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে রাশেদ হোসেন বলেন,আমার বড় ভাই মোঃ রাজু আহমেদের ৩টি ট্রাক্টর আছে। আমার ভাই ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। উক্ত ট্রাক্টরের ছালক হিসেবে সাঈদ আলী প্রায় ৬ মাস কাজ করেছে। সাঈদের নির্দিষ্ট বেতন ছাড়াও সে আমার ভাইয়ের ট্রাক্টর ভাড়া বাবাদ আরো প্রয় ২০ হাজার টাকা বিভিন্ন জায়গা থেকে আদায় করে নিজে আত্মসাৎ করে। ট্রাক্টর ভাড়ার যে টাকা পাওনা হতো বিভিন্ন জায়গা থেকে গোপনে সাঈদ নিয়ে আসতো কিন্তু ভাইয়ের নিকট জমা দিত না। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সাঈদের কাছে টাকা চাইলে সে আজ দেব, কাল দেব বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে গত ১৮সেপ্টেম্বর বিকালে সাঈদ টাকা দিবে বলে আমার ভাইকে ডেকে পাঠায়। সেঅনুযায়ি বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কেরালকাতা গ্রামস্থ সাইদ আলী এর বাড়ীর সামনে ইটের রাস্তার উপর সাঈদকে পেয়ে টাকা চাইলে সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আমার ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় ভাই আমাকে সেখানে ডেকে পাঠায়।
তিনি বলেন, আমি সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর সাঈদ ফোনে জাকিরকে সেখানে ডেকে পাঠায়। জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে এসে কোন কথা না বলে তার হাতে থাকা হাসুয়া দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারে। এতে আমার মাথার পিছনের পাশে গুরুতর হাড়কাটা জখম হয়। আমি মাটিতে পড়ে গেলে জাকির পুনরায় আমাকে এলোপাতাড়ি কোপ মারে ফলে আমার বাম হাতের তালুতে লেগে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। এসময় ভাই রাজু জাকিরের হাত থেকে আমাকে বাচানোর জন্য এগিয়ে গেলে সাঈদের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে তাকেও বেধড়ক মারপিট করে। এক পর্যায়ে সাঈদের লোক রাকিবুল ইসলাম নাঈম ও সবুজ হোসেন ঘটনাস্থলে এসে তাদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে আমাকে মারপিট করে জখম করে। পরবর্তীতে আমার ভাই রাজু আহমেদের ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে তারা আমাকে ও আমার ভাই রাজু আহমেদকে খুন জখম করবে মর্মে হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যায়। এসময় তারা আস্ফালন করে বলে যদি পুনরায় আর টাকার কথা উল্লেখ করিস তাহলে তোদের জীবনে শেষ করে ফেলবো।
তিনি আরো বলেন, এঘটনার আমার ভাই রাজু স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেন। পরবর্তী সাতক্ষীরা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ আমাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আমি সেখানে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছি।
রাশেদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সাঈদের সহযোগি জাকির একজন পেশাদার খুনি। তার নামে ১টি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সে একজন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী। তার জন্য এলাকার উঠতি বয়সী ছেলেরা আজ বিপদগামী। সে এতই হিংস্র যে, তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার অপকর্মের প্রতিবাদ করায় প্রতিশোধ নিতে সে সাঈদের সাথে হাত মিলিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়।
তিনি তদন্তপূর্বক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাঈদ ও জাকিরসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনসহ উর্দ্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ আমিনুর হোসেন
দেশ টাইমস
www.deshtimes24.news.com
Copyright © 2026 DESHTIMES 24. All rights reserved.