এ ঘটনায় কলারোয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার হরিণনগর গ্রামের মৌচাষি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গত ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে মাগুরা জেলা থেকে রাণি মৌমাছি নিয়ে মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর '২৬) রাতে কলারোয়া উপজেলার মীরডাঙ্গা গ্রামে এসে পৌছান। সেখানে ইমামুল ইসলামের আমবাগানে অস্থায়ী মৌ-খামার স্থাপন করেন। সেখানে তিনি ২৮০টি মৌ-বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য নিবিড় পরিচর্যা ও পাহারা দিয়ে আসছিলেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর '২৬) রাত আনুমানিক ১:০০ টা থেকে ভোর ৬:০০ টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমবাগানে থাকা মৌমাছির ২৮০টি বাক্স পাশের দুটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। সকালে উঠে খামার মালিক দেখতে পান, পুকুরের পানিতে ডুবে রানি মাছিসহ সব মৌমাছি মারা গেছে এবং বাক্সগুলো সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ মৌচাষি জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে জানান, শুক্রবার সারাদিন আমি আম বাগানে আমি যখন মৌ বাক্স গুলো সেখানে স্থাপন করলাম তখন কেউ আমাকে কিছু বলি নি। তারপর শনিবার সকালে উঠে দেখি আমার সব মৌবাক্স পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মৌ-বাক্সগুলো শুধু পানিতে ফেলে দেওয়া হয়নি, এর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও জীবিকার পথও ধ্বংস করা হয়েছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
তিনি আরো বলেন, প্রতিটি বাক্সে ৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্য মৌমাছির বাজার মূল্য। ২৮০টি বাক্সে থাকা মৌমাছির বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া গত কয়েক দিনে খাদ্য ও পরিচর্যা বাবদ আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। শত্রুতা করে আমার এই সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমি একবারে নিঃস্ব হয়ে রাস্তায় বসে গেছি।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জমি মালিক ইমামুল ইসলাম, মহিদুল ইসলাম ও ইমরান হোসেনসহ এলাকার উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা এ ধরনের জঘন্য কর্মকান্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
বাংলাদেশ বিকিপার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ আফজাল বলেন, সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানায় বড়ুই বাগানে মৌখামারের সব মৌবাক্স পুকুরে ফেলে যে দূর্ঘটনা ঘটিছে আমি তার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাই। দুষ্কৃতিকারী যেই হোক না কেন তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
এ বিষয়ে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান রিমু মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে ১১ তারিখ রাতে। ভুক্তভোগী থানায় ১২ তারিখ এসে একটা লিখিত অভিযোগ দায়ের করে গেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।