
জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল সাতক্ষীরার তালা উপজেলার দুই শিশু। কথা ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে কাক্সিক্ষত পুরস্কার। কিন্তু ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৫’-এ দেশসেরা হওয়ার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখনো মেলেনি পদক, সনদপত্র কিংবা প্রাইজমানি। উল্টো সম্প্রতি ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬’-এর পুরস্কার দেওয়া হলেও উপেক্ষিত থেকে গেছে পূর্ববর্তী বছরের এই কৃতী শিক্ষার্থীরা। এতে চরম হতাশা ও মানসিক কষ্টে দিন কাটছে তাদের।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় চিত্রাঙ্কন বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে তালা উপজেলার ১২৭ নম্বর পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহিয়া সুলতানা (তাহা)। একই প্রতিযোগিতায় লোক সঙ্গীত ইভেন্টে জাতীয় পর্যায়ে দেশসেরা হয় ৩৩ নম্বর তালা বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাধুর্য দাশ।
কৃতী শিক্ষার্থী তাহিয়া সুলতানা জানায়, সে স্বপ্ন দেখেছিল দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা গ্রহণ করবে এবং সেই ছবি ফ্রেমে বাঁধিয়ে ঘরে ঝুলিয়ে রাখবে। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো সনদ বা পদক হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালের চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত জাতীয় সেরা শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত না করেই পরবর্তী বছরের পদক বিতরণ করায় ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা।
তাহিয়া সুলতানার অভিভাবক মো. শাহাবুদ্দীন মোড়ল বলেন, “আমাদের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে সারা দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো ইতিবাচক উত্তর পাইনি। জাতীয় পর্যায়ে সেরা হয়েও শিশুরা যদি সম্মান না পায়, তবে তাদের কোমল মনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”
মাধুর্য দাশের বাবা কলেজ শিক্ষক প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় লোক সঙ্গীত ইভেন্টে জাতীয় পর্যায়ে দেশসেরা হয় মাধুর্য দাশ। অথচ তাদের পুরস্কার না দিয়ে ২০২৬ সালের পুরষ্কার কিভাবে দেওয়া হলো সে বিষয়ে তিনি বোধগোম্য নন।
পাটকেলঘাটা মডেল প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক শেখ অলিউল ইসলাম জানান, সেরা মেধার স্বীকৃতি না পাওয়ায় এই শিশুরা হতাশ হয়ে পড়ছে। দ্রত সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালের পদক হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।
বঞ্চনার অবসান চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাবর স্মারকলিপি ও আবেদনপত্র পাঠিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তাদের দাবি, দ্রুত আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৫’-এর পদক, সনদপত্র ও প্রাইজমানি দিয়ে শিশুদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজা স্বর্ণা বলেন, “এ বিষয়ে আমার করণীয় কিছু নেই।”
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ আমিনুর হোসেন
দেশ টাইমস
www.deshtimes24.news.com
Copyright © 2026 DESHTIMES 24. All rights reserved.