প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৬, ২০২৬, ৭:১০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২৬, ২০২৬, ৫:০৭ পি.এম
ডুমুরিয়ার টিপনা আঙ্গারদোহা দাখিল মাদ্রাসার মাঠে তীব্র জলাবদ্ধতা, চরম ভোগান্তিতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা আঙ্গারদোহা দাখিল মাদ্রাসার মাঠে সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারি ও ছেলেমেয়েদের মাঠ দিয়ে চলাচল করতে চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়। ইতিমধ্যে একাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারি পিচ্ছিল মাঠে পড়ে গিয়ে পরিহিত পোশাক ও বই খাতা নষ্ট হয়েছে। মাদ্রাসার মাঠটি অত্যন্ত নিচু ও সব সময় পানি জমে থাকায় কোমলমতি ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করতে পারে না।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়ক বরাবর ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারদোহা গ্রাম নামক স্থানে মনোমুগ্ধকর নিরিবিলি পরিবেশে ১ একর ৩৬ শতক জমির উপর ১৯৭৬ সালে টিপনা আঙ্গারদোহা দাখিল মাদ্রাসারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে হাঁটিহাঁটি ও গুটিগুটি পায়ে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সহিত এগিয়ে চলেছে। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা এসএম বায়জিদ হুসাইন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। ইতিমধ্যে ২০১৮ সালে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি একটি চারতলা বিশিষ্ট ভবন পেয়েছে। সেখানে ছেলে মেয়েরা বেশ স্বাচ্ছন্দের সাথে ক্লাস করতে পারেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক। এখানে রয়েছে সুদক্ষ ১৬ জন শিক্ষক শিক্ষিকা, ৫জন কর্মচারি। যার মধ্যে ৪জন এনটিআরসি'র নিয়োগ প্রাপ্ত। মোট শিক্ষার্থী রয়েছে তিন শতাধিক। এত কিছুর পরেও প্রতিষ্ঠানটির মাঠ নিচু হওয়ায় ও মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় শিক্ষক-কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। মাঠটি এত নিচু যে, সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি হয়ে যায়। আর অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে অনেক সময় মাদ্রাসার বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠে যায়। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারি ও শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় যাওয়া আসা করতে চরম ভোগান্তির স্বীকার হয়। এমনকি অতি বৃষ্টির সময় সাপ পোকের ভয়ে কোমলমতি ছেলেমেয়েরা অনেক সময় মাদ্রাসায় আসতে ভয় পায়। ফলে লেখাপড়ার বেশ ক্ষতি হয়। এদিকে মাঠে পানি জমে থাকার কারণে শিক্ষকরা তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল গুলো নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে মহাসড়কের উপর রাখে। কিন্তু তারা সার্বক্ষনিক সংশয়ে থাকে, কখন না জানি তাদেন মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। এব্যাপারে অত্র মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বাবুল আক্তার, নাহিদুজ্জামান, কবির হোসেন, ইয়াসমিন খাতুন বলেন, আমাদের মাদ্রাসাটির মাঠটি এত নিচু যে, সারাবছর আমরা এখানে খেলাধুলা করতে পারি না। আর বর্ষার মৌসুম এলে খেলাধুলা তো দূরে থাক, মাঠ দিয়ে চলাচল একেবারে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে যায়। এজন্য মাঠটি উঁচু করা অত্যন্ত জরুরী বলে তারা মনে করেন।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা এসএম বায়জিদ হুসাইন বলেন, লেখাপড়ার দিক দিয়ে আমাদের মাদ্রাসার বেশ সুনাম রয়েছে। কিন্তু একটি ভালো মাঠ না থাকায় এখানকার শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় অনেক পিছিয়ে। আর বর্ষার মৌসুম আসলে মাঠটি পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ আমিনুর হোসেন
দেশ টাইমস
www.deshtimes24.news.com
Copyright © 2026 DESHTIMES 24. All rights reserved.