
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই '২৬) সকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা ইউনিট কর্তৃক আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মূলত দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সংগঠনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নিবন্ধিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে ফোরামকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনার চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিলটি আদালত এলাকা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। সংগঠনের জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আলহাজ মো. নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন, যা সংগঠনটির দলীয় গুরুত্ব এবং সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী আইনজীবীরা দাবি করেন যে, বিগত ১৭ বছর ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত বিএনপির প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। বক্তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে থেকে কাজ করা সত্ত্বেও সাংগঠনিক স্বীকৃতির অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই আইনজীবীরা দলীয় কাঠামোর ভেতর যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু এবং প্রধান অতিথি পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার দাবি করেন যে, আইনজীবী ফোরামকে সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা দিলে তৃণমূল পর্যায়ের আইনজীবীরা আরও বেশি উজ্জীবিত হবেন। তারা উল্লেখ করেন, সাংগঠনিক স্বীকৃতির বিষয়টি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য একটি পদক্ষেপ। ভুক্তভোগী আইনজীবীদের মতে, এই স্বীকৃতি না থাকায় অনেক সময় দলীয় কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনের গতিশীলতাকে ব্যাহত করছে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই দাবি বিবেচনার আহ্বান জানান। সমাবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সংগঠনের স্বচ্ছতা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রদান। বক্তারা পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেন যে, সংগঠন পরিচালনায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অনিয়মের সুযোগ নেই এবং কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তা প্রমাণসহ উপস্থাপনের জন্য আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, কোনো মতপার্থক্য থাকলে তা প্রকাশ্য না করে সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এটি মূলত সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভ্রান্তি দূর করার একটি কৌশলগত বার্তা ছিল, যাতে বাইরের কোনো পক্ষ বা ব্যক্তি সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে না পারে। সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের এই কঠোর অবস্থান স্থানীয় আইনজীবীদের মধ্যে এক ধরনের শৃঙ্খলাবোধ তৈরির প্রয়াস বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
পরিশেষে, সাতক্ষীরার এই কর্মসূচি বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে আইনজীবী ফোরামের প্রভাব বিস্তারের একটি লক্ষণীয় প্রতিফলন। যদি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই দাবিকে আমলে নিয়ে স্বীকৃতি প্রদান করে, তবে ভবিষ্যতে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মাঠ পর্যায়ে আইনজীবীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব প্রদানের বিষয়টি আরও সুসংহত হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের কোন্দল বা বিভক্তি তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। আইনজীবীদের মতো একটি সচেতন ও শিক্ষিত পেশাজীবী সংগঠন যদি দলীয় কাঠামোর ভেতর সুসংগঠিত সহযোগী হিসেবে স্বীকৃতি পায়, তবে তা আগামী দিনে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আইনি লড়াইয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। সামগ্রিকভাবে, এই বিক্ষোভ মিছিলটি কেবল একটি স্বীকৃতির দাবি নয়, বরং সাতক্ষীরায় বিএনপির আইনি অঙ্গনকে আরও শক্তিশালী ও দায়বদ্ধ করার একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ আমিনুর হোসেন
দেশ টাইমস
www.deshtimes24.news.com
Copyright © 2026 DESHTIMES 24. All rights reserved.