শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডুমুরিয়ায় রহমানিয়া কওমী মাদ্রাসা ও হেফজখানা আয়োজনে অভিভাবক সমাবেশ ও গাছের চারা বিতরণ  সাতক্ষীরার সুলতানপুর চাউল বাজার সমিতির সভাপতি বিপুল, সাধারণ সম্পাদক মামুন  ডুমুরিয়ার কাঁঠালতলা বাজার বণিক সমিতির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জের ব্যবসায়ীকে হে ন স্থা ও অ প্র চা রে র প্র তি বা দে সংবাদ সম্মেলন শ্যামনগরে মসজিদের পুকুর দ খ লে র পাঁ য় তা রা ও হু ম কি র প্র তি বা দে মানববন্ধন ভোমরা বন্দর থেকে ২১৬টি ডায়মন্ডের নাকফুল জব্দ, ট্রাকসহ আ ট ক ২ ভা র তী য় না গ রি ক সাতক্ষীরায় নি খোঁ জে র তিনদিন পর মিলল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ম র দে হ ২৪ ঘণ্টায় ২১৬ মিমি: সাতক্ষীরার ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত জনজীবন সাতক্ষীরায় পরকীয়া প্রেমিকাসহ স্ত্রীর হাতে ধ রা প ড়ে প দ হা রা লে ন জামায়াত নেতা ফিরোজ তালায় পানিতে ডু বে শিশুর মৃ ত্যু

বিজিবির বিশেষ অভিযানে সাতক্ষীরায় ২২ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল যন্ত্রাংশ জব্দ

✍️দেশ টাইমস নিউজ ডেস্ক ✅
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বৈকারী ও কাকডাঙ্গা বিওপির সদস্যরা বুধবার সকালে এক বিশেষ চোরাচালান বিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করেছে।

বুধবার ০৮ জুলাই ২৬ সকালে সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার বলদঘাট এলাকা থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার এবং কলারোয়া থানার কেড়াগাছি এলাকা থেকে ২০ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। বিজিবির এই সমন্বিত টহল দলের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, ফলে কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব না হলেও পাচারের বড় একটি চালান নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানটি সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবির সক্ষমতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে একটি অসাধু চক্র শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নিয়মিতভাবে ভারতীয় ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইল যন্ত্রাংশ অবৈধ পথে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে, যার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। ভুক্তভোগী স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চোরাচালানের মাধ্যমে আসা এই পণ্যগুলো কোনো প্রকার বৈধ কর প্রদান ছাড়াই বাজারে সুলভ মূল্যে বিক্রি হওয়ায় প্রকৃত আমদানিকারক ও বৈধ ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

চোরাচালানিরা দুর্গম সীমান্ত পথ ব্যবহার করে নিত্যনতুন কৌশলে এসব মালামাল দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করাচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট করার পাশাপাশি দেশের রাজস্ব কাঠামোকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই চোরাচালানি চক্রের সাথে জড়িতদের কঠোর আইনের আওতায় না আনলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিজিবি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত পণ্যগুলো আইন অনুযায়ী শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল, যা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির জন্য একটি বড় হুমকি। বিজিবি কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, চোরাচালানের মাধ্যমে আসা এই পণ্যগুলো দেশীয় শিল্প বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযুক্ত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবি তাদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করেছে এবং ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় এই ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শুধুমাত্র মালামাল জব্দ করলেই হবে না, বরং এই চোরাচালানি সিন্ডিকেটগুলোর মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যায়।

সীমান্তে বিজিবির এই সফল অভিযান স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অবৈধ পণ্য চোরাচালান রোধ করা গেলে যেমন দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও সহজতর হবে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এই ধারাবাহিক নজরদারি সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটি আরও সুদৃঢ় করেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে হলে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবিকে যৌথভাবে কাজ করে সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দিতে হবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!