
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে শুক্রবার (০৩ জুলাই '২৬) বিকালে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি ও সমাবেশের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জানান দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
মাদককে না বলুন এবং জীবনকে হ্যাঁ বলুন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ আলমগীর হোসেন এবং সভাপতিত্ব করেন মৌতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আনারুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ক্রমবর্ধমান মাদক সমস্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা এবং তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ধারার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।
মূলত স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মরণনেশার হাত থেকে রক্ষা করার তাগিদ থেকেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যা স্থানীয়দের মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে একটি কার্যকর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী ভুক্তভোগী পরিবার এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মাদকের সহজলভ্যতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান সময়ে মাদকদ্রব্য এতটাই সহজলভ্য হয়ে পড়েছে যে তা প্রতিটি পরিবার ও সমাজের মূল কাঠামোকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ইউপি সদস্য ফয়সাল কবির তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা সত্ত্বেও মাদকের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না, যার ফলে যুবসমাজ আজ নৈতিক অবক্ষয়ের চরম শিখরে পৌঁছেছে। ভুক্তভোগী অভিভাবকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে মাদক কারবারিদের যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তা উপড়ে ফেলা না গেলে মেধাশূন্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে আগামীর প্রজন্ম। তারা দাবি করেন, মাদকের এই বিষবৃক্ষ নির্মূলে কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয়দের এই অভিযোগগুলো মূলত মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত বাস্তবতাকে তুলে ধরে, যেখানে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনিক কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা বারবার উঠে এসেছে।
মাদকবিরোধী এই সমাবেশে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, যা সমস্যার সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুবদলের নেতৃবৃন্দ কাজী আবু সাঈদ ও শেখ তৈয়নুর রহমানসহ অন্যান্য বক্তারা সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান। সমাধানের অংশ হিসেবে তারা যুব সমাজকে খেলাধুলা, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সমাবেশের শেষ পর্যায়ে কিশোর ও যুবকদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করা হয়, যাতে তারা মাদকের পরিবর্তে মাঠমুখী হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে যুবকরা বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা পাবে এবং মৌতলা ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব হবে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি তাদের আহ্বান হলো, মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় আনা এবং মাদকের উৎসস্থলগুলো ধ্বংস করা।
মৌতলা ইউনিয়নের এই মাদকবিরোধী কার্যক্রম ভবিষ্যতে কালিগঞ্জ উপজেলার সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা। যুব সমাজের হাতে খেলার সরঞ্জাম তুলে দেওয়ার মাধ্যমে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাদক পাচারকারী ও সেবনকারীদের জন্য একটি সামাজিক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করবে। মাদকবিরোধী এই উদ্যোগ কেবল একটি দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি টেকসই সামাজিক পরিবর্তনের সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি নিয়মিত বিরতিতে এই ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যায়, তবে তা অন্যান্য ইউনিয়নের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।
পরিশেষে, মাদকবিরোধী এই সামাজিক আন্দোলন সফল হলে তা কেবল স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বরং জাতীয় পর্যায়েও তরুণদের বিপথগামী হওয়া রোধে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা একটি সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনে সহায়ক হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ আমিনুর হোসেন
দেশ টাইমস
www.deshtimes24.news.com
Copyright © 2026 DESHTIMES 24. All rights reserved.