
গোবরদাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৫ মে '২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন সদরের ব্যাংহা কাশেমপুর গোবরদাড়ী গ্রামের মো: মোজাফফর হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোবরদাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান নিয়ম না মেনে নিজের মনগড়া ইচ্ছামত চাচাতো শালা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল হোসেনকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বানিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ বাণিজ্য করে আসছে। নিয়ম হলো-৯ম গ্রেডের নিচে কোন ব্যক্তি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবে না, অথচ ১০ম গ্রেডের ব্যক্তিকে আইনের তোয়াক্কা না করে সভাপতি বানিয়েছে শুধুমাত্র অর্থ বাণিজ্য করার জন্য। কৃষি শিক্ষা বিভাগের সহকারী শিক্ষক সবুজ হোসেন ৯ জামুয়ারি ২০২৫ হতে ৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত ১০ মাস প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত এবং ২০১৪ সালে আরও ৪ মাস অনুপস্থিত থেকেও ভুয়া মেডিকেল ছুটি দেখিয়ে, জনসেবা ক্লিনিক বুধহাটা হতে ভুয়া ডাক্তারী সার্টিফিকেট নিয়ে ছুটি ও পারিবারিক চিকিৎসা দুই ধরনের ছুটি মঞ্জুরী দেখিয়ে তাকে বকেয়া সকল বেতন দেয়া হয়েছে, যাহা সম্পূর্ণ অবৈধ ও আইন বহির্ভূত। যেটা সুপার টাকা খেয়ে বেতন ছাড় করে দিয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা কর্মী মাছুমকে অফিস না করিয়ে তাকে সম্পূর্ণ বেতন নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এই সুপার সিদ্দিকুর রহমান। তাছাড়া গোপনে ম্যানেজিং কমিটির সাথে যোগসাজসে আয়া, নিরাপত্তা কর্মী ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার বাণিজ্য করে আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিক কাজে ব্যবহার না করে সুপার এবং কমিটির লোকজন আত্মসাৎ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে অফিস সহায়ক পদে লোক নিয়োগ করা হবে। এই পদেও তার নিজের ইচ্ছামত যে বেশি টাকা দিতে পারবে তাকে নিয়োগ দিবে। কোন পরীক্ষার্থী যদি মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয় তারপরও তার নিয়োগ দেওয়া হয়না, কারণ সে কাঙ্খিত টাকা দিতে পারে না। এ জন্য জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি যে, বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে, তাতে নিয়োগ পরীক্ষা যেন নিতে না পারে অর্থাৎ নিয়োগ দিতে না পারেন, সে ব্যাপারে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এব্যাপারে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও মানুষ গড়ার কারিগর গোবরদাড়ী দাখিল মাদ্রাসাটির শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং দুর্নীতিবাজ সুপার সিদ্দিকুর রহমান ও তার শালা সহযোগী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল হোসেন যাতে অবৈধভাবে কোন নিয়োগ বাণিজ্য করতে না পারে, তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।