
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বৈশখালি গ্রামের পশু চিকিৎসক অনিমেষ পরমান্য অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
মঙ্গলবার (০৫ মে '২৬) বিকেলে তারা সাতক্ষীরার আমলী আদালত-৫ এর বিচারক মেহেদী হাসানের খাস কামরায় অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এ জবানবন্দি দেয়।
১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দাতারা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে যুবদল নেতা মাহামুদুল হাসান ডন (৩২), একই গ্রামের সুজাউদ্দিনের ছেলে মুন্সিগঞ্জের ৭ নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি আব্দুর জব্বার (৩৫) ও নেছার আলীর ছেলে শাহীনুর গাজী (৩০)। এদিকে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসি সোমবার বিকেলে ভেঙে দিয়েছে অপহরণকারি বনদস্যু আশরাফের বাড়ির ঘরের চাল।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২ মে সকাল ১০টার দিকে বৈশখালি গ্রামের টেকনিশিয়ান ভেটেনারী পল্লী চিকিৎসক অনিমেষ পরামান্য বাড়ি থেকে বের হয়ে হরিনগর গ্রামের ফাল্গুনী রপ্তানের বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হন। পথিমধ্যে চেয়ারম্যান মোড়ে ট্যারাখালি গ্রামের ও বর্তমানে বৈশখালি গ্রামে বসবাসরত আশরাফ হোসেন তার মটর সাইকেলে উঠে সুন্দরবন বাজারে যাওয়ার আব্দুর করে। তাকে সুন্দরবন বাজারে নামিয়ে দেওয়া হয়। সকাল ১১টার দিকে ফাল্গুনী রপ্তানের বাড়ি থেকে বের হয়ে সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে তাকে থামায় আশরাফ ও রবিউল।
একপর্যায়ে রবিউলের বাড়িতে অসুস্থ গরু দেখতে যাওয়ার কথা বলে দুজনকে মটর সাইকলে তুলে মীরগাং যেতে হয়। সেখানে গরু না থাকায় গরু আনতে দেরী হবে বলে তাকে নিয়ে সুন্দরবনে ঘুরে আসার কথা বলে রবিউল। একপর্যায়ে নিজের মটর সাইকেলে তালা মেরে বেড়িবাঁধের উপর রেখে আশরাফ ও রবিউলসহ নৌকায় ওঠেন তিনি। নৌকায় আগে থেকে জব্বার গাজী, মাহামুদুল হাসান, শাহীনুর ও মতিয়ার বসে ছিল। ধলের খালে নৌকা পৌছালে সকলে তাকে ঘিরে ধরে তার ব্যাগে থাকা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। পরে গামছা ও দড়ি দিয়ে তাকে বেঁধে ফেলে লাঠি দিয়ে মারপিট করে মুক্তিপণ বাবদ ৫০ লাখ টাকা চায়। কেড়ে নেওয়া হয় মটর সাইকেলের চাবি। পরবর্তীতে তার স্ত্রী সবিতা রানীর কাছে তারই মুঠোফোন থেকে ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। তাকে খুঁজে না পাওয়ায় ভাই প্রিয়নাথ পরমান্য ২ মে রাতে থানায় ১০০ নং হারানো সংক্রান্ত ডায়েরী করেন। স্ত্রী সবিতা টাকা দিতে রাজী হওয়ায় ৩ মে রাত সাড়ে সাতটার দিকে আসামী মতিয়ার টাকা নিতে মীরগাং বেড়িবাঁধের উপর আসে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের তৎপরতা দেখে মতিয়ার বনের মধ্যে চলে যায়। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৪ মে সকাল ৮টার দিকে তাকে ফেরৎ দেওয়া হবে বলে শলাপরামর্শ করতে থাকে আসামীরা। রাত ৯টার দিকে সুন্দরবনে পুলিশি অভিযান শুরু হবে জানতে পেরে শাহীনুরের মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে নিয়ে শাহীনুর মীরগাং বেড়িবঁাধে আসে। চিৎকার করায় শাহীনুরকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে দেয়। পরে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক সুদেব পাল জানান, মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে অনিমেষ পরমান্য বাদি হয়ে সোমবার রাতে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা (৬নং) দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত ২০১৮ সালে র্যাব এর হাতে আত্মসমর্পণকারি মাহামুদুল হাসান ডন, শাহীনুর ও জব্বারকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে নিয়ে আসা হয়।
বিকেলে তারা আমলী আদালত-৫ এর বিচারক মেহেদী হাসানের কাছে অপহরণের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি পর্যালোচনা করে পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মাঈনউদ্দিন জানান, জবানবন্দি শেষে তিন আসামীকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।