প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১০:১৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৬:৫৪ পি.এম
তালায় ফসলি জমি ও কপোতাক্ষ বেঁড়িবাধের মাটি গিলছে ভাটা, অপ্রতিরোধ্য মাটিখেকো গ্রুপ

সাতক্ষীরা তালা উপজেলায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে একের পর এক বা একাধিক ফসলি জমি ও কপোতাক্ষ বেঁড়িবাধের মাটি গিলছে ভাটাগুলো। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চালু থাকা ইটভাটায় প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ আর শঙ্কা।
সূত্রে জানাযায়, তালা উপজেলায় বিভিন্ন ভাটায় মাটি সরবারহ করতে সক্রিয় রয়েছে একটি মাঠিখোগো সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম কাজ হলো কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে ফসলি জমির উর্বর অংশ কেটে ভাটায় পৌছে দেওয়া। এছাড়া ৫৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে খননকৃত কপোতাক্ষ বেঁড়িবাধের মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করা। রাত যতই গভীর হয় ততই সক্রিয় হয় সিন্ডিকেট। রাতের আধারে কিংবা কখনো দিনের বেলায় প্রকাশ্য দানব গাড়ীতে কপোতাক্ষের বিভিন্ন স্থান থেকেই মাটি বহন করে তারা। কেউ প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে তাদের বলা হয় তাদের কাছে প্রশাসনের অনুমতি আছে।
ভাগবাহ গ্রামের সুনীল দাশ জানান, এলাকায় ভাটা নির্মাণের শুরু থেকেই নিজের ক্ষমতা জাহির শুরু করেন ভাটার মালিক। এলাকাটি জনবসতিপূর্ণ ও ফসলি জমি এলাকা হওয়ায় প্রথম থেকে সেখানে ভাটা নির্মাণে বাধা দিয়েছিল এলাকাবাসি। তবে কোন বাধাই আটকাতে পারেনি ইটভাটা নির্মাণ কার্যক্রম। ভাটা এলাকায় একটি মন্দির থাকায় স্থানীয় সনাতন ধর্ম্বাবলম্বীরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য ক্ষমতার বলে ভাটা স্থাপনে সফলতো হয়েইছিল, উপারন্তু অভিযোগকারীরা সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাদের দেশছাড়া করবার হুমকি দেওয়া হয়।
২০২০ সালে কপোতাক্ষ নদের তীরে রাখা ভাটার মাটির চাপে বেঁড়িবাধের প্রায় ৫০০ মিটার অংশ ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে যায়। সে সময় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এসব নিয়ে লেখালেখি হলেও কিছুই হয়নি। পরবর্তীতে সেই মাটি উত্তোলনের নামে বেঁড়িবাধের আরও ৫০০ মিটার অংশের মাটি কেটে ভাটার কাজে ব্যবহার করা হয়। চলতি বছরেই এর ব্যাতায় ঘটেনি। কপোতাক্ষ নদের বেঁড়িবাধের বিভিন্ন অংশের মাটি ভাটায় ব্যবহার করার পাশাপাশি সিন্ডিকেট তৈরি করে মাটির ব্যবসায় নেমেছে একটি চিহ্নিত মহল। এসকল অপকর্মের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোন ফল পাওয়া যায় না।
পাটকেলঘাটা এলাকার স্বাধীন নামের এক ব্যক্তি জানান, গভীর রাতের শুরু হয় কপোতাক্ষ বেঁড়িবাধের মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ। শত শত মাটি বহরকারী ডাম্পার গাড়ীতে মাটি পরিবহন করায় শব্দে আমরা ঘুমাতে পারি না। প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের লোকেরা হুমকি দিয়ে বলে প্রশাসনের অনুমতি পেয়ে সবকিছু করছি। আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলে লাভ হবে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই একই ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে।
বিষয়টি নিয়ে তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর ব্যবহ্নত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
Copyright © 2026 DESHTIMES 24. All rights reserved.