
সাতক্ষীরা তালায় আধুনিক পদ্ধতিতে কলা চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন শিক্ষিত বেকার যুবক খায়রুল আলম। তিনি উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের উত্তর শাহাজাতপুর গ্রামের মোঃ আনছার আলী মোড়লের পুত্র।
উচ্চ ফলনশীল জি-৯ বা গ্র্যান্ড নাইন জাতের টিস্যু কালচার কলা চাষ করে তিনি স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তিনি তার বিনিয়োগের তুলনায় দ্বিগুণ মুনাফার আশা করছেন।
কৃষক খায়রুল আলম জানান, তিনি এমএ পাশ করে বাসায় বেকার বসেছিলেন। হঠাৎ তার মাথায় আসে কলা চাষের কথা। প্রায় এক বিঘা তিনি উচ্চ ফলনশীল জি-৯ (এ-৯) বা গ্র্যান্ড নাইন জাতের টিস্যু কালচার কলা চাষ করেন। কলা রোপণের মাত্র ৯-১০ মাসের মধ্যে কলার কাঁদি কাটা যায়। সব গাছ সমান উচ্চতার হয়, যা বাগানের পরিচর্যা সহজ করে। প্রতিটি কাঁদিতে গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত কলা থাকে। কলাচাষে তার মোট ব্যয় হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে লক্ষাধিক টাকার কলা বিক্রি করেছেন তিনি। বর্তমানে জমিতে পর্যাপ্ত কলার খাদি রয়েছে, যা খনেক টাকায় বিক্রি হবে। এছাড়া কলার চারাও বেশ দামে বিক্রি বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ‘শুরুতে একটু ভয় ছিল। কারণ চারাগুলোর দাম সাধারণের চেয়ে একটু বেশি। কিন্তু মাঠে লাগানোর পর দেখা যায় এর বৃদ্ধি খুব দ্রুত হচ্ছে। প্রতিটি গাছে প্রায় ৩০-৩৫ কেজি ওজনের কাঁদি এসেছে। বাজারের সাধারণ কলার চেয়ে এই কলা দেখতে উজ্জ্বল হলুদ এবং স্বাদেও চমৎকার। বাজারে জি-৯ জাতের কলার ব্যাপক চাহিদা। এর খোসা কিছুটা পুরু হওয়ায় পরিবহনে নষ্ট হওয়ার ভয় কম থাকে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি সুবিধা। তিনি সরকারী কোন সাহায্য সহযোগিতা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের খরচে চাষ করে এ পর্যন্ত পৌঁছেছেন। সুদমুক্ত কৃষি লোন এবং সরকারি সহযোগিতা পেলে কৃষকরা কলা চাষে আরো চাষে আগ্রহী হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, খায়রুল আলমের এই সাফল্য প্রমাণ করে আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক জাত নির্বাচন করলে কৃষি থেকে বিপুল আয় করা সম্ভব।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ আমিনুর হোসেন
দেশ টাইমস
www.deshtimes24.news.com
Copyright © 2026 DESHTIMES 24. All rights reserved.