
বর্তমান পরিস্থিতিতে যেনো কোনোভাবেই কোনো প্রকার জ্বালানী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার না হতে পারে সে বিষয়ে সাতক্ষীরা সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি। এখনও পর্যন্ত কোনো জ্বালানী অবৈধভাবে ভারতে গেছে এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকটি স্থান থেকে অবৈধ মজুদের কারণে প্রায় ১০ হাজার লিটার পেট্রোল উদ্ধার করেছে টাস্কফোর্স।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক পাহারায় রয়েছে। ভারত থেকে আগে পন্যবাহি যেসব ট্রাক বাংলাদেশে আসতো তারা সেখান থেকে কম তেল নিয়ে এসে বাংলাদেশ পার থেকে ডিজেল ভওে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ছিল। সেটি তারা চিহ্নিত কওে যাতে কোনোভাবেই সেটি করতে না পারে সেটি ভারতীয় বিএসএফকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে তারা যেন ভারত থেকে আসা সকল ট্রাককে তেল ভর্তি করে বাংলাদেশে পাঠান। এ বিষয়ে পাম্পগুলিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
অধিনায়ক আরও বলেন, মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল '২৬) বিজিবি’র মহপরিচালকের দপ্তর থেকে সব ধরনের জ্বালানী ব্যায় আর্ধেকে নামিয়ে আনতে নিদের্শনা দেয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে তারা পরিবহন, বিদ্যুৎ, বা অন্যান্য খাতে জ্বালানী ব্যয় সাশ্রয় শুরু করেছেন। তাদের সীমান্তে টহলেও পরিবহন ব্যয় কমিয়ে ফেলেছেন। যেখানে দুইটি গাড়ী ব্যবহার হতো সেখানে একই কাজ একটি গাড়ীতে সারতে বলা হচ্ছে। এধরনের জাতীয় সংকট নিরসনে সকলকে সহযোগিতা করার অনরোধ জানান তিনি। কেউ কোনো ধরনের জ্বালানী মজুদ করলে তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কঠোর অবস্থানে যাবে।
ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা জানান, ভোমরা বন্দর দিয়ে আগে গড়ে ভারত থেকে আসতো ২৫০ টি ট্রাক। বর্তমানে জ্বালানী সংকটের কারনে উভয় দেশের পন্য আমদানী-রপ্তানীর ওপর কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) এর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় ৪৮ হাজার ৮৬০ টির মত ডিজেলচালিত যন্ত্র আছে। চলতি বোরো মৌসুমে তাদের আর তেমন তেলের প্রয়োজন নেই। ধান পাকা শুরু হয়েছে, সোমবার প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া আকাশ মেঘাচ্ছন্ন আছে আরও বৃষ্টি হতে পারে, যে কারনে বেশীরভাগ কৃষকের তেলের প্রয়োজন মেষ হয়ে গেছে। দু’একজনের যা প্রয়োজন আছে তাদের জন্য কৃষিবিভাগ ছিলিপ দিয়ে পাম্পগুলি থেকে তেল নিতে পারছেন কৃষকরা। সবমিলিয়ে জ্বালানী সংকট কৃষিখাতে কোনো প্রভাব পড়বে বলে জানান তিনি।