
অবৈধ দখলের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী কর্তৃক সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের অধ্যক্ষকে হাতুড়ি পেটা, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে বাড়িঘর এবং আসবাবপত্র, ফার্নিচার ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল '২৬) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শহরের মুনজিতপুর এলাকার মুত. এসএম অজিহার রহমানের ছেলে একেএম সফিকুজ্জামান এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সদর উপজেলার ঝিকটি রাজাপুর এলাকায় আমার ৯ বিঘা সম্পত্তিতে একটি প্রজেক্ট করা আছে। যার মধ্যে আমার ৮ বিঘা দখল আছে। সেখানে দুইতলা বিশিষ্ট একটি ভবন রয়েছে। পাশাপাশি আরো ৩ বিঘা সম্পত্তির বায়না করা হয়েছে। বায়নাকৃত উক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য জমির মালিক দখল দিতে চাইলেও দখল দিতে পারছে না। পার্শ্ববর্তী সাবেক ইউপি সদস্য খালেদা আক্তার এবং তার স্বামী উক্ত সম্পত্তির কিছু অংশ অবৈধভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। এটা নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বসাবসি হয়েছে। থানায় শালিস হলেও কোন সমাধান হয়নি। উল্টো খালেদার পরসম্পদ লোভী সন্ত্রাসী স্বামী বাবুর আলীসহ অন্যরা বিভিন্ন সময়ে আমাকে খুন জখমসহ বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে।
সফিকুজ্জামান আরো বলেন, এসব ঘটনার জের ধরে গত ১ এপ্রিল বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রেজেক্টে শ্রমিকরা কাজ করছে সেটা দেখাশোনা করার সময় আকর্স্মিকভাবে মৃত আনারুল ইসলামের ছেলে মাহফুজুল ইসলাম, মৃত সুলতান সরদারের ছেলে সন্ত্রাসী বাবুর আলী, আব্দুল জলিল, বাবুর আলীর জামাতা জিয়ারুল ইসলাম, ছেলে ইসমাইলসহ কয়েকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু প্রজেক্টে প্রবেশ করে আমার ওপর অতর্কিত উপর হামলা করে। আমি জীবনের ভয়ে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলে তারা চাইনিজ কুড়াল, দা, হাতুড়ি , চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে দরজা ভেঙে আমাকে বের করে পিটিয়ে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখে। এসময় তারা আমার লক্ষ লক্ষ টাকার গ্লাস ভেঙে গুড়িয়ে দেয়, ঘরের ফার্নিচার ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এছাড়া সেখানে থাকা নগদ টাকাসহ ১৫ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণাঙ্কার লুটপাট করে। পরে সেখানে থাকা তিন লক্ষ টাকা মূল্যের এফজেড মোটর বাইকও ভেড়ে গুড়িয়ে দেয় এবং আমার ব্যবহৃত মোবাইলটি লুট করে নেয়। খবর পেয়ে আমার ছোট ভাই শরিফুজ্জামান সেখানে পৌছানোর সাথে সাথে তারও মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগিতায় সদর হাসপাতাল ভর্তি হই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, উল্লেখিত বাবুর আলীর নিজেদের অপরাধ ঢাকতে তার স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন ভুঁইফোড় অনলাইনে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তার স্ত্রী ৫০ বছর বয়সী একজন নারী। তাকে ধর্ষনের অভিযোগে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অপচেষ্টাও তারা চালাচ্ছেন। অথচ আমি একজন শিক্ষক, শহরের প্রতিষ্ঠিত একটি কলেজের অধ্যক্ষ। শুধুমাত্র নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে নিজের স্ত্রীর চরিত্রে এমন কালিমা লাগিয়ে স্বার্থ হাসিলে চেস্টা করছেন সন্ত্রাসী ও মামলাবাজ বাবুর আলী এবং তার সহযোগী মাহফুজুল ইসলাম। একই সাথে মানুষ গড়ার কারিগর একজন শিক্ষকের চরিত্র হরণ করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে।
তিনি এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ও ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কাছে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছি।