
জ্বালানী সংকটের কারনে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানী-রপ্তানী আশাংকাজনক হারে কমে গেছে। ভারত বাংলাদেশের উভয় দেশে একই সংকট দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়িরা। তাছাড়া জ্বালানী সংকট ও পরিবহন সংকটের কারনে পন্য বহনে গাড়ী প্রতি অতিরিক্ত ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। বাড়তি ভাড়া দিয়েও অনেক সময় সময়মত পন্যবাহী গাড়ী পাচ্ছেনা।
ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা জানান, ভোমরা বন্দর দিয়ে আগে গড়ে ভারত থেকে আসতো ২৪০ থেকে ২৫০ টি ট্রাক। যা এখন ১২০ থেকে ১৭২ টিতে নেমে এসেছে। তিনি জানান এই বন্দও দিয়ে চাল, পাথর, ভুষি, পশুখাদ্য, ফল, পিয়াজ, আদা সিরামিকের র’ মেট্রিয়াস ইত্যাদি পন্য আসে। সেগুলি ব্যবসায়িরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানী সংকটের কারনে উভয় দেশের পন্য আমদানী-রপ্তানীর ওপর এর বিরুপ প্রভাব পড়েছে। উভয় দেশের ব্যবসায়িরা সময়সত বা চাহিদামত গাড়ীর নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। বিশেষ কওে আদা, ফল ও পিয়াজ ব্যবসায়িরা বেশী সমস্যায় পড়েছেন। কারণ এগুলি দ্রুত পচনশীল পন্য হওয়ায় কেনা থেকে বিক্রি পর্যন্ত যত দ্রæত পৌছানো যায় সেটি ব্যবসায়িদের জন্য মঙ্গলজনক। কিন্তু এখন জ্বালানী সংকটের কারনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভোমরা বন্দরে ট্রাক আসছে কম। এই সংকট ভারত বাংলাদেশ উভয় দেশে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে এই বিরুপ প্রভাব সারা দেশে বাজারে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের আশাংকা।
ভোমরা স্থল বন্দর ট্রান্সপোট মালিক সমিতির (৮৬/৭) সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন কিরণ বলেন, ভোমরা বন্দর দিয়ে বর্তমানে মালমাল কম আসছে। সাতক্ষীরা, যশোর, খুলনার পাম্পগুলিতে তেল কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রংপুর অঞ্চলে জ্বালানীর সংকট রয়েছে। এসব অঞ্চলের পাম্পগুলিতে তেল পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে ট্রাক চালকরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন খোলাবাজার থেকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে জ¦ালানি কিনে কোনোরকম গন্তব্যে পৌছছে। এতে তারা সময়মত নির্ধারিত গন্তব্যে পৌছাতে পারছেনা। ফলে আমদানীকারকরা যথাসময়ে বাজার ধরতে না পারায় আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভোমরা স্থল বন্দর ট্রান্সপোট মালিক (৮৭) সমিতির সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী বলেন, কোনো পাম্প থেকে একটি গাড়ীর ঢাকায় যাওয়ার জন্য যে তেল প্রয়োজন তা এক পাম্প থেকে পাওয়া যাচ্ছেনা। তিন থেকে চারটি পাম্প থেকে জ্বালানী নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ লাইন থাকার কারনে যে গাড়ী অন্য সময় একদিনে পৌছায় তা এখন দুই দিন লাগছে। ফলে একদিকে পরিবহন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে কাঁচামাল বিশেষ করে আদা কিছুটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়িরা লোকসানের মুখে পড়ছে।