
সাতক্ষীরার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধান ইয়ার আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদনের শুনানী আগামিকাল ৩১ মার্চ মঙ্গলবার।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মোঃ সরোয়ার হোসেন গত ২৮ মার্চ ইয়ার আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে এ আবেদন করেন।
একইসাথে ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় ২৮ মার্চ পুলিশের দায়েরকৃত মাদক মামলায় ও বিকাশ এজেন্ট কালিগঞ্জের মৌতলার মোকলেছুর রহমানের তিন লক্ষাধিক টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গত ১১ মার্চ দায়েরকৃত তারই দায়েরকৃত মামলায় ইয়ার আলীকে আগামিকাল গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন জানানো হবে।
ইয়ার আলী(৪৪) কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার তরফদারের ছেলে।
সাতক্ষীরা আদালত সূত্রে জানা গেছে, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধান ইয়ার আলীকে গত ২৭ মার্চ রাত সাড়ে সাতটার দিকে তার নিজ গ্রাম কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের নিজ গ্রাম শংকরপুর থেকে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, পাঁচ রাউণ্ড গুলি ও ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া প্রায় একই সময়ে তার স্বীকরোক্তি মোতাবেক তারই সহযোগী বেনাদোনা গ্রামের আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বলকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় কৃষ্ণনগর গ্রাম থেকে একটি মটর সাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় খুলনা র্যাব-৬ এর সিপিএ মোঃ মুনসুর আলী বাদি হয়ে ইয়ার আলীর নাম উল্লেখ করে ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনে কালিগঞ্জ থানায় (জিআর-৫৮/২৬ কালিঃ) মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। একইভাবে ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ইয়ার আলী ও বেনাসনা গ্রামের মাহামুদ আলী বিশ্বাসের ছেলে আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বলের নাম উল্লেখ করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গত ২৮ মার্চ উপপরিদর্শক সরোয়ার হোসেন বাদি হয়ে একটি মামলা (জিআর-৫৯/২৬ কালিঃ) দায়ের করেন। ওই মামলায় আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। ইয়ার আলীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপ- পরিদর্শক শেখ মহিদ বিল্লাহ’র সোমবারের (৩০ মার্চ '২৬) আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হবে।
একইভাবে গত ৮ মার্চ বিকেলে কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় পশ্চিম মৌতলা গ্রামের বিকাশ এজেন্ট মোকলেছুর রহমানের মাথায় রড দিয়ে মাথা ফাটিয়ে তিন লাখ ১১ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তারই দায়েরকৃত ১০ মার্চের দস্যুতার মামলায়(জিআর-৪১/২৬, ধারা-৩৯৪) ইয়ার আলী, পলাশ তরফদার, বিল্লাল গাজী ও আলোক গাজীকে পলাতক দেখানো হয়। তবে এজাহার বহির্ভুত কৃষ্ণনগর গ্রামের নুরুল হক সরদারের ছেলে শিমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলার প্রধান আসামী হিসেবে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মাহাবুবর রহমান সোমবার আদালতে ইয়ার আলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান। সে অনুযায়ি আগামিকাল তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হবে।
কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন ও উপপরিদর্শক শেখ মহিদ বিল্লাহ জানান, ইয়ার আলীকে যথাক্রমে মাদক ও দস্যুতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পরদিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিন করে রিমাণ্ড আবেদন জানানো হবে। ইয়ার আলীর বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা, শ্যামনগর সদর, যশোর (কোতোয়ালি) ও খুলনার ডুমুরিয়া থানায় ২৫টি মামলা রয়েছে।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনউদ্দিন জানান, কালিগঞ্জ আমলী আদালত এর বিচারক অর্পিতা আক্তারের আদালতে আগামিকাল মঙ্গলবার ইয়ার আলীর রিমাণ্ড শুনানী ছাড়াও মাদক ও দস্যুতার দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এজন্য তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হবে।
এদিকে গত শুক্রবার রাতে ইয়ার আলী ও তার সহযোগী আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বল গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কৃষ্ণনগর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইয়ার আলীর ভাই বাহার আলী ও জহুর আলী ছাড়াও তাদের দ্বিতীয় টিমের সদস্যরা বহাল তবিয়তে ঘোরা ফেরা করছে। তারা ইয়ার আলীর জামিনের জন্য সোতা, বেলেডাঙা, চৌধুরাটি, বেনাদোনাসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সশস্ত্র চাঁদাবাজি করছে। কিছুদিনের মধ্যেই ইয়ার আলী ও তার ভগ্নিপতি রেজাউল জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় আবারো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে এ আশঙ্কায় অনেকেই নতুন করে চাঁদা দিতে শুরু করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ আমিনুর হোসেন
দেশ টাইমস
www.deshtimes24.news.com
Copyright © 2026 DESHTIMES 24. All rights reserved.