
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জমিজমা সংক্রান্তে বিরোধের জেরে চিকিৎসা নিতে আসা হাসপাতালে ভর্তিরত রাসেল বিশ্বাস (২৬) নামের এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৯ মার্চ '২৬) দুপুরে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে কোটালীপাড়া উপজেলার বর্ষাপাড়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামাল বিশ্বাসের ছেলে রাসেল বিশ্বাস (২৬) গুরুতর আহত হন। পরদিন শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে তাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে প্রবেশ করে তাকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
এ ঘটনায় আহত রাসেলের পরিবার বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।মামলা দায়েরের পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ।
কোটালীপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সফর আলীর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানাধীন খলিসাখালী গ্রাম থেকে ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বর্ষাপাড়া গ্রামের কলম বিশ্বাসের ছেলে হাফিজুর বিশ্বাস (৩৫), কাউছার বিশ্বাস (৪২), কুব্বাত বিশ্বাস (৫৫), কাউসার বিশ্বাসের ছেলে শ্রাবণ বিশ্বাস (১৯),মোজাহের বিশ্বাসের ছেলে পান্না বিশ্বাস (৪৮) ওপান্না বিশ্বাসের ছেলে রুমান বিশ্বাস (১৮)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুবীর সাহা রোববার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করেন পরে বিচারিক আদালত অভিযুক্তদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান তারা আদালতে রিমান্ড চেয়েছেন, আগামী ৩১ মার্চ রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, এটি একটি আলোচিত ঘটনা। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। কোটালীপাড়া থানার ওসি তদন্ত সফর আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম গোয়েন্দা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।