
মহাদেব চন্দ্র সাধুর ম্যানেজারের দায়ের করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় হাজিরা দেয়ার পর সাতক্ষীরা চিফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন ঢাকার আদাবর থানার শেখেরটেক এলাকার ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি শুধু মুসলমান নয়, অনেক হিন্দুকেও আসামি করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং কয়েকটি মামলায় তিনি কারাভোগও করেন। পরে জেল থেকে বের হয়ে, যারা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেই তিনি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। এমনকি এসব মামলায় পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশে আমরা এমন মামলা আশা করিনি। সাত মাস আগের ঘটনা দেখিয়ে চুরির মামলায় থানার ওসি ও ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তারা তার বাড়ি থেকে মালামাল ও চেক চুরি করেছেন। অথচ ওই সময় মামলার বাদী থানায় কোনো জিডি পর্যন্ত করেননি। সাত মাস পর ভিন্ন কৌশলে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এ ধরনের গায়েবি মামলা রুজু হবে-এটা আমরা কল্পনাও করিনি।”
মামলার আসামি ইসমাইল হোসেন রতন (৩২) বলেন, আমি ঢাকায় ব্যবসা করি। আমাকে হয়রানি করার জন্য সাতক্ষীরা থানায় আমার বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করেছেন সাতক্ষীরার মাগুরা এলাকার মহাদেব চন্দ্র সাধুর কথিত ম্যানেজার মনোজ কুমার সরদার। মহাদেব চন্দ্র সাধু আমাকে কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, মহাদেব চন্দ্র সাধুর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৭০টি মামলা রয়েছে। তিনি অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির ব্যক্তি। কয়েকশ কোটি টাকার প্রতারণা ও ধর্ষণ মামলায় তিনি কারাভোগ করেছেন।
ইসমাইল হোসেন রতন দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠান “রাহাবার এগ্রো” থেকে বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে মহাদেব চন্দ্র সাধু ও তার সহযোগীরা প্রায় ১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার দেশি-বিদেশি কৃষি উপকরণ গ্রহণ করেন। কিন্তু টাকা পরিশোধ না করে ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করেন। টাকা চাইলে মামলার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি পাওনা টাকা চাওয়ার জেরে তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় চুরির মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ আমিনুর হোসেন
দেশ টাইমস
www.deshtimes24.news.com
Copyright © 2026 DESHTIMES 24. All rights reserved.