
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন এ্যাকশন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড এর ১৫টি গ্রামে কানাডিয়ান দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিনিউ এর আর্থিক সহযোগিতায় জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের কার্যক্রম হিসেবে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জে ফেইথ ইন এ্যাকশনের আয়োজনে সিআরসি প্রকল্প অফিসে ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত ১৫ জন স্বাস্থ্য সেবককে নিয়ে ৫ দিনের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি '২৬) বিকাল ৪:০০ টায় উক্ত প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে সভাপতিত্ব করেন ফেইথ ইন এ্যাকশনের নির্বাহী পরিচালক নৃপেন বৈদ্য, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন, অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন উক্ত প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী তীমন বাড়ৈ, সিআরসি প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মিল্টন বাড়ৈ, প্রশিক্ষক ডা. অয়ণ উৎসব বৈদ্য, ডা. আশরাফ মাহমুদ সোহাগ, প্রকল্পের মিল অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস, হিসাবরক্ষক লরেন্স ঢালী, জেন্ডার অফিসার নওমী বিশ্বাস প্রমূখ।
ফেইথ ইন এ্যাকশনের পরিচালক বলেন, “আমরা গাবুরাতে কাজ করছি মানুষের জীবন-যাত্রার মান উন্নয়ন করতে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন করতে। এই ১৫ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ শেষে গাবুরায় স্বেচ্ছাসেবকের সঠিক দায়িত্ব পালন করে তবে গাবুরাতে মানুষ স্বাস্থ্য সেবা সঠিকভাবে পাবে। প্রকল্পের মৌজা ভিত্তিক যে মাল্টিপারপাজ রেজিলিয়েন্ট কমিউনিটি রিসোস্র্ সেন্টার রয়েছে সেখানে স্বাস্থ্যসেবকরা বসে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য পরামর্শ দিতে পারবেন। সেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা, পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুর যত্ন, পুষ্টি, মাতৃত্বকালীন চেক-আপ নিতে কমিউনিটির মানুষদের স্থানীয় স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে প্রেরণ করতে পারবে। ফলে ঝুঁকি কমবে।”
প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন বলেন, “গাবুরাতে স্বাস্থ্য সেবার মান খারাপ। সেখানে মানুষ অসুস্থ হলে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই মারা যায়। সেজন্য স্বাস্থ্য সেবায় গাবুরাতে কাজ করা প্রয়োজন। ফেইথ ইন এ্যাকশন যে কার্যক্রম করছে তাতে গাবুরার মানুষ সচেতন হবে এবং স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ তৈরি হবে। এসব স্বাস্থ্য সেবকদেও যদি বড় পরিসরে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় তবে গাবুরাতে মাতৃ মৃত্যু হার কমবে এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হবে।”
অংশগ্রহণকারী ফাহিমা খাতুন বলেন, “এমন প্রশিক্ষণ আমাদের আগে প্রয়োজন ছিল, যাতে আমরা মানুষকে সেবা করতে পারতাম। প্রশিক্ষক যত্ন সহকারে আমাদেরকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার সবকিছু শিখিয়েছেন, ফিল্ডে যেয়ে আমরা প্রাকটিক্যাল শিখেছি। ফেইথ ইন এ্যাকশনের এমন প্রশিক্ষণে এসে আমি নিজেকে গর্ববোধ করছি।”
প্রশিক্ষণ শেষে এসব প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে প্রশিক্ষণ সনদ তুলে দেওয়া হয়। এবং পরবর্তীতে তাদের ফাস্ট এইড বক্স সহ প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার উপকরণ বিতরণ করা হবে।