
আক্ষেপনামা
নিশ্বাসে নিশ্বাসে আমাকে ছুঁয়ে যায় পৃথিবীর প্রতিটি ক্লান্তি
আমি ছুঁই না কিছুই—হাত বাড়ালেই যেন গলে যায় কাঁচের স্বপ্ন
দাঁড়িয়ে থাকি জোনাকির মৃত শহরে, ভাঙা পাথরের নিচে একান্ত একা নবচৈত্রের রোদে তৃষ্ণার মতো পুড়ি,
বৃষ্টির মুখে ঠোঁট রেখে চুমু দেই, তারপরও জল পাই না—
অথবা জলকে কল্পনায় চেপে ধরে উপবাসী বিলাসে হারিয়ে যাই।আমারও তো থাকার কথা ছিল একটা বৃষ্টিভেজা জানালায় কবিতা রাখার কথা ছিল তোমার চোখের ভেতর ঢুকে পড়ার মতো কিছু তারার আলো রাখার কথা ছিল।
আমারও হতে পারত এক চিলতে ঘর— দুইটি পাখির ঝগড়ায় ভরা বিকেল, চৌকাঠ পেরিয়ে যে বাতাস আসে সে হয়ে উঠত আমার আত্মীয় একটুখানি উঠোনে রাত্রি এসে বীণ বাজাতো,
একটি তালগাছ, তার ছায়ায় বসে আমি তোমার নাম গাইতাম।কিন্তু আমার চোখজুড়ে এখন কুয়াশার কুন্ডলী প্রতিটি আলো কেবল বিভ্রমের ফাঁদ— উঠোনজুড়ে অনিশ্চয়তার হাওয়ায় দুলছে রাত্রি ও দিনের পালা স্বপ্ন এসে পড়ে যায় গাঙচিলের মৃত ডানায়।
তবু বিশ্বাস করো হে বুনো ঘাস, চাঁদহীন রাতের মাঝে আমি খুঁজি এক নির্বিকার স্বস্তি, বিশ্বাস করো হে নীরব উঠোন,
তোমার বুকের শেষ প্রান্তে আমি রাখতে চাই এক অনল দিনের জন্ম।চিত্রা নদীর পাড়ে
২১ এপ্রিল, ২০২৫