
নিঃসঙ্গ বাতিঘর
আমি আজন্ম ভালোবেসেছি—
গভীর সমুদ্রের মতো,
ঢেউ হয়ে এসে ভেঙে পড়েছি তীরের বুকে,
ভেবেছি, কেউ না কেউ একদিন
হাত বাড়াবে আমার দিকে।
কিন্তু ভালোবাসা কি সত্যি সংক্রামক?
নদী ছুঁয়ে গেলে কি তীর ভিজে যায়?আমি দেখি—
পাহাড়ের গায়ে মেঘ নামে,
কিন্তু মেঘ ফিরে যায়
একফোঁটা জলও না রেখে।
ঠিক তেমনই, আমার ভালোবাসা
আকাশ ছুঁয়ে ফিরেছে শূন্য হাতে,
বুকের ভেতর জমেছে কুয়াশার মতো
একটা প্রশ্ন—
তবে কি আমি ভালোবাসার যোগ্য নই?তবুও, যখন কেউ মায়াভরা চোখে তাকায়,
হাতের আঙুল ছুঁয়ে যায় অযত্নে,
তখন বুকের ভেতর ঢেউ ওঠে,
একটা উন্মাদ হাওয়া বয়ে যায়
গোধূলির নরম আলোয়।
মনে হয়— ইশ! যদি তাকে জড়িয়ে ধরে
একটু কাঁদতে পারতাম!
বলে দিতে পারতাম,
"কিচ্ছু চাইনি আমি,
শুধু একটুখানি ভালোবাসা!"তবে কি এতটুকু চাওয়াও বিলাসিতা?
আমি শিখে গেছি—
ভালোবাসা ফেরত আসে না,
পৃথিবীর সবচেয়ে একাকী বাতিঘর আমিই,
যে শুধু পথ দেখায়,
তবু নিজে ডুবে থাকে অন্ধকারে।তাই আর অপেক্ষা করি না,
আর প্রত্যাশা রাখি না,
শুধু ভালোবাসি—
নিঃস্ব হয়ে, নিঃশেষ হয়ে,
সেই শেষ বিকেলের রোদের মতো
যে ডুবে যায় তবু ফিরে আসে না,
যে ভালোবেসে যায় নিরন্তর,
যার ভালোবাসার কোনো ঠিকানা নেই।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
১৬ মার্চ, ২০২৫