
সাতক্ষীরার আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেঁড়িবাধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেঁড়িবাধ এর প্রায় ৪০০ ফুট এলাকা জুড়ে ভেঙে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে কাঁচা বাজার, আল আকসা জামে মসজিদ ও গোয়ালডাঙ্গা বাজারসহ আশেপাশের এলাকা। ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে।
সরজমিনে শনিবার (০১ মার্চ '২৫) দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, গতবছর মরা মরিচ্চাপ নদী খননের পর বছর যেতে না যেতেই দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙ্ন। এই মুহূর্তে বেঁড়িবাধ ভাঙন না আটকাতে পারলে বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের কয়েক হাজার বিঘা জমির বোরো ধান ও শত শত বিঘা জমির ক্ষেতের তরমুজসহ বহু মৎস্যঘের লোনা পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশংকা বিরাজ করছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের নিয়ে উপজেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোনে বিষয়টি জানানোর পর আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ নোমান হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন খুবই দুঃখজনক। এই বেড়িবাঁধের কাজ যদি দ্রুত সংস্কার করা না হয় তাহলে বড়দল ও খাজরা ইউনিয়ন পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি তিনি তার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে জরুরিভাবে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করার চেষ্টার আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ টাইমসকে জানান, আমি ছুটিতে থাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনকে দ্রুত বেঁড়িবাধ ভাঙন স্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। দ্রুত বেঁড়িবাধ সংস্কার কাজের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ টাইমসকে বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ঢাকায় রয়েছেন। রবিবার সকালে তিনি সাতক্ষীরায় ফিরে আসবেন। আসার পর তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বেঁড়িবাধ সংস্কারের ব্যবস্থা করব।
এদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী এব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে জরুরিভাবে বেঁড়িবাধ সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।