
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পঞ্চম শ্রেণীর শারীরিক প্রতিবন্ধি ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত দুটোর দিকে প্রধাণ শিক্ষককে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মলেঙ্গা গ্রামের আত্মীয়ের বাড়ি ও মাদ্রাসা শিক্ষককে দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মানিকখালি গ্রামের অব্দুস ছাদেম গাজীর ছেলে পূর্ব রমজাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর (৫০) ও দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ কুলিয়া গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে ও এলাহী বক্স দাখিল মাদ্রাসার ক্রীড়া শিক্ষক সামছুজ্জামান (৪৮)।
শ্যামনগর থানাধীন রমজাননগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের এক যুবক জানান, তার বড় বোনের দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়–য়া ছেলেকে প্রতিদিন পূর্ব রমজাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতো তারই বুদ্ধি প্রতিবন্ধি বোন(৩১)। ওই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি বোনকে খাবার ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কেউ বাড়িতে না থাকার সূযোগে গত বছরের ১৩ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে বোনকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে বললে জীবননাশের হুমকি দিয়ে যায়। এমনকি ওই শিক্ষক বোনকে ফোন নং দিয়ে যেয়ে বলে বাড়িতে কেউ না থাকলে তাকে কল দিতে। একপর্যায়ে কয়েকমাস ধরে স্কুলের মধ্যে একটি ঘরে কয়েকবার ধর্ষণ করে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর। গত ১২ জানুয়ারি বাড়িতে এসে ধর্ষণের চেষ্টাকালে জানাজানি হলে আব্দুস সবুর পালিয়ে যায়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে তার বোন তিন মাসের অন্তঃস্বত্বা বলে জানা যায়। এ নিয়ে শুক্রবার থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর রাতেই তাকে কালিগঞ্জ থানাধীন মলেঙ্গা গ্রামের তার ভায়রা ভাই মোহাম্মদ আলী ওরফে খোকনের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
তবে শনিবার বিকেলে আদালত চত্বরে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুস সবুর জানান, এলাকার দলাদলিতে তার চাচাত ভাই হুমায়ুন কবিরের পরিকল্পনায় তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে।
দেবাহটা থানার কুলিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামের এক দিনমজুর জানান, তার শারীরিক প্রতিবন্ধি ছেলে কুলিয়া এলাহীবক্স দাখিল মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেণীতে পড়াশুনা করে। গত বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় ওই মাদ্রাসার ক্রীড়া শিক্ষক সামছুজ্জামান তার ছেলেকে দোতলায় ডেকে নিয়ে একটি ঘরে বলাৎকার করে। তার ডাক চিৎকারে লোকজন ছুঁটে এলে ওই শিক্ষক পালিয়ে যায়। শুক্রবার রাতে থানায় মামলা হওয়ার পরপরই ওই শিক্ষককে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাদ্রাসা শিক্ষক সামছুদ্দিন জানান, মাদ্রসায় নির্বাচনকে ঘিরে তার সঙ্গে মাদ্রাসা সুপারের বিরোধ হয়। এ বিরোধকে কাজে লাগিয়ে নিরীহ ভাটা শ্রমিককে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে সুপার আব্দুল কুদ্দুস মিথ্যা মামলা করিয়েছেন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম বাদল ও দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ ওবায়দুল্লাহ জানান, পৃথক ঘটনায় দুই থানায় দুই শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ২০০০ সালের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯(১) ধারায় শুক্রবার রাতে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ভিতটিমদ্বয়ের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে বিচারিক হাকিম বণ্যা খাতুনের কাছে ২২ ধারা ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধি শেষে বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।