
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও গনমাধ্যম কর্মীদের দাবীর প্রেক্ষীতে অবশেষে সংশ্লীষ্ট মন্ত্রণালয় গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বসন্তপুর নৌ-রুট।
১৯৬৫ সালে সচল নৌরুট বন্ধ হয়ে গেলেও স্থানীয় জনগন যাতায়াত করত। মহান স্বাধীনতার পরেও ভারতের হিঙ্গলগঞ্জ ও কালিগঞ্জের নাজিমগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের বানিজ্য ও পর্যটকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু ছিলো। যা ১৯৯৬ সালে আইনানুগভাবে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। অথচ এই পোর্টদিয়ে বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ্য পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল ও বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতা শেখ নাসেরসহ তাদের পরিবারের অনেক সদস্য ভারতে গমনাগমন করেন। পোর্টটি চালুর জন্যে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল ১৫/১১/ ২০২০ তারিখে সাতক্ষীরার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল মহোদয়ের মাধ্যমে আবেদন করেন। কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের জনবান্ধব চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর সহযোগিতায় আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লীষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের পরে প্রক্রিয়াধীন ছিল নৌরুট বাস্তবায়নের জন্য। অবশেষে মন্ত্রণালয়ে থেকে গেজেট আকারে প্রকাশ হওয়ায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা এলাকার সচেতন মহলে চলছে আনন্দ, উৎসব ও মিষ্টি বিতরণ। জানাগেছে, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক এম হাফিজুর রহমান শিমুলসহ সাংবাদিকবৃন্দ ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর যৌথ উদ্যোগে বসন্তপুর রামজননী ভবন এলাকায় গত ১৮/০২/২০২২ তারিখে আনন্দ ভ্রমনের মাধ্যমে দাবী তোলা হয় নৌরুট চালুর জন্যে। আবেদনের বিষয়টি বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, পত্র পত্রিকায় ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বুধবার (০২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় গেজেট প্রকাশের খবরে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এসময়ে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) রোকনুজ জামান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্ণা চক্রোবর্তী, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও প্রবন্ধকার সাবেক অধ্যাঃ গাজী আজিজুর রহমান কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে মিষ্টিমুখ করান। কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, যুগ্ম সম্পাদক এম হাফিজুর রহমান শিমুল, তথ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এস এম আহম্মাদ উল্লাহ বাচ্ছু প্রমুখ এসময়ে উপস্থিত ছিলেন। ইতিমধ্যে ঐ নৌরুটস্থলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দর্শনার্থী ও পর্যটকদের ভ্রমনের জন্য সাজানো হয়েছে বসন্তপুর রিভার ড্রাইভ ইকো পার্ক। প্রস্তাবিত উক্ত নৌরুটটি চালু হলে আন্তদেশীয় প্রবাহমান ইছামতি নদী পথে ভারতের বসিরহাট হতে পর্যটকদের চলাচলের ব্যবস্থা হলে তা স্থানীয় বানিজ্য ও পর্যটন খাতে উন্নয়নমুখী ভুমিকা রাখবে। নৌপথে পন্য আদান প্রদান তুলনামূলক সাশ্রয়ী হবে।