শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রা জ নী তি ছা ড় লে ন গোপালগঞ্জের এক আওয়ামীলীগ নেতা সাতক্ষীরায় ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বি ক্ষো ভ মি ছি ল ও সমাবেশ বৃক্ষরোপন প্রকল্পে দু র্নী তি : সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা স্ট্যা ন্ড রি লি জ  সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে মা দ ক বি রো ধী মানববন্ধন  রাত দু’টোর অসমাপ্ত কল (তোমার জন্য) – কবি কল্যাণ ব্যানার্জি সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য রথযাত্রা: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের উদ্যোগে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব সাতক্ষীরা সদরের ডি.বি ইউনাইটেড হাইস্কুলে শহীদ আবু সাঈদ দিবস পালিত কালিগঞ্জের গোবিন্দকাটিতে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা মহোৎসবে বিএনপি নেতা কাজী আলাউদ্দিন কালিগঞ্জে জুলাই শহীদ দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

শ্বোশুর বাড়ির লোকজনদের নির্যাতনে পাটকেলঘাটার গৃহবধু মৌসুমী সাহার আত্মহত্যা

রঘুনাথ খাঁ, জেষ্ঠ প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০
  • ৫১৬ বার পড়া হয়েছে

ছোট কাকা রাহুলদেব সাহা ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে। তাকে বাবার চেয়ে বেশি ভালোবাসতো ঠাকুরদাদা দীনবন্ধু সাহা ও ঠাকুর মা স্বপা রানী সাহা। কাকুকে সকল সম্পত্তি দিয়ে দেব বলে আমাদেরকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে চেয়েছিল ঠাকুরমা ও ঠাকুর দাদা। বাবা কলেজে গেলে মাকে মারপিট করতেন তারা। আজে বাজে ভাষায় গালিও দিতেন তারা মাকে। গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে আমাদের ঘরে হামলা চালিয়েছেন ঠাকুরমা ও ঠাকুর দাদা। আর কতো সহ্য করবে মা। অবশেষে কাকার ইন্ধনে ঠাকুরমা ও ঠাকুরদাদার শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে আত্মহত্যার পথ ই বেছ নিল মা।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী তমিষ্ঠা সাহা বুধবার পাটকেলঘাটা শ্মশান মায়ের সৎকারের সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব এভাবেই তার মা মৌসুমী সাহার মৃত্যুর বর্ণনা দেয়।

মাকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য দায়ীদের দৃষ্টামূলক শাস্তি দাবি জানিয়ে তমিষ্ঠা বলেন, মা মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যান ঝুলে আত্মহত্যার আগে নিজ হাতে আত্মহত্যার জন্য দায়ীদের নাম লিখে গেছে। পুলিশ এখনো তাদের ধরতে পারেনি। মায়ের অবর্তমানে তার লেখাপড়ার ক্ষতি হবে, তাকে নানান জ্বালায় জ্বলতে হবে এমন সব কথা বলার একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তমিষ্ঠা। দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের স্বপন সাহা জানান, তালা থানাধীন বলরামপুরের দীনবন্ধু সাহার ছেলে উৎপল সাহার সঙ্গে ২০০৬ সাল পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল তার মেয়ে মৌসুমীর। বিয়ের দু’ বছর পর তমিষ্ঠা সাহা নামের একটি মেয়ে হয়। বেহাই বহান ও তাদের ছোট ছেলে রাহুল দেব সাহার শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মৌসুমীকে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করতে হলো। জামাতা উৎপল সাহা জাতপুর টেকনিক্যাল কলেজের প্রভাষক। উৎপল কলেজ যাওয়ার পরপরই নির্যাতনের খাড়া নামতো মৌসুমীর উপর। তাকে অনেকবার জানিয়েছে মৌসুমী। উৎপলকে সে বলেছিল বাড়ি ছেড়ে দিলে যদি বাবা ও মা খুশী হয় তাহলে এখান থেকে আর লাভ কি। কিন্তু উৎপল বাড়ি ছাড়তে চায়নি। পৈতৃক ভিটে ছেড়ে সে যাবেও বা কেন? শেষ পর্যন্ত ছোট্ট মেয়েটির মুখের দিকে না তাকিয়ে মৃত্যুকে বেছে নিল মৌসুমী। পৃথিবীতে এমনভাবে কোন মেয়েকে যেন মৃত্যুকে মেনে নিতে না হয়। মৌসুমীকে আত্মহত্যার জন্য বেহাই, বেহান দায়ী বলে সুইসাইড নোটে লিখে গেছে। নেপথ্য ছোট ছেলে রাহুলদেব সাহা বাবা ও মাকে দিয়ে বড় ভাই ও বউদিকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করতে চেয়েছিল। সে কারণে আত্মহত্যার জন্য তিনজনই দায়ী তাই তিনি মঙ্গলবার রাতে বেহাই, বেহান ও রাহুল দেব এর বিরুদ্ধে পাটকেলঘাটা থানায় মামলা দিয়েছেন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে বুধবার সন্ধ্যায় মৌসুমীর লাশ পাটকেলঘাটা শ্মশানে সৎকার করা হয়েছে।

পাটকেলঘাটা থানার তদন্ত ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, মৌসুমী সাহার মৃত্যুটা দুর্ভাগ্যজনক। মৃতের বাবার এজাহারটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!