
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথেরেশপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে।
ইউপি সদস্য ও স্থানীয়দের দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ, পুকুর খনন প্রকল্পের অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ডিসিসহ সরকারের বিভিন্তন দপ্দতরে। তদন্ত পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী।সরেজমিন সূত্রে জানাগেছে,, ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিজদেবপুর গ্রামের সাইদুল ঢালীর বাড়ি থেকে হাবিব ঢালীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক লক্ষ টাকা ব্যয়ে ইট সোলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, মূলত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের ভায়রা ভাইয়ের ব্যক্তিগত চলাচলের পথ। অথচ ব্যাক্তির রাস্তা হলেও সরকারি রাস্তা হিসেবে দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি বরাদ্দের ৭ টন চালের বিনিময়ে পুকুর খনন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকাবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে পুকুর খনন করা হলেও বর্তমানে চারদিকে দেয়াল নির্মাণ করে তা ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ৩৫টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার, জেলে সম্প্রদায়সহ হাজারো মানুষ সুপেয় পানি ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অন্যদিকে নিজদেবপুর পূর্বপাড়া এলাকায় হালিম সরদারের বাড়ি থেকে মোল্লাবাড়ি মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার রাস্তা নির্মাণ কাজেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। স্থানীয়রা জানান, রাস্তার পাশে মাটি ভরাট বাবদ বরাদ্দকৃত প্রায় ৩০ হাজার টাকার সবই আত্মসাৎ করা হয়েছে। নিত্যানন্দপুর এলাকায় নওশাদ গাজীর বাড়ি থেকে জুব্বারের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণেও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য এস এম আবু তাহের সাংবাদিকদের বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলেই ধরাকে সরাজ্ঞান করে দুর্নীতি করে আসছে। আমি বিএনপি করি বলে আমাকে কোনো সরকারি কাজের বরাদ্দ দেননি তিনি। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করে যাচ্ছি, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে আমাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এই ওয়ার্ডের বিভিন্ন প্রকল্পে মহিলা ইউপি সদস্য মেহরুন নেছাকে সভাপতি বানিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রকল্পের টাকা লুটপাট ও সীমাহীন দুর্নীতি করা হচ্ছে।”তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বক্তব্যে তিনি বলেন আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রমুলক অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত আমি নির্দোষ।
স্থানীয়দের দাবি, উল্লেখিত বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবী। উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন বলেন- মথুরেশপুর ইউনিয়নে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে, যার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম সরেজমিনে এ বিষয়ে তদন্ত করছেন, পরে সব জানানো হবে।